পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রায়হান কবির এক মহান নেতা। বাঙালি জাতিকে স্বৈরশাসন হাত থেকে মুক্ত করা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রাব্যবস্থা ও আধা-সামরিক বাহিনীর গঠনসহ এক ঐতিহাসিক কর্মসূচি পেশ করেন।
- ক)(1)
শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন?
- খ)(2)
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রিকে কালরাত্রি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকটিতে কোন ঐতিহাসিক কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ করেছে- তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত গণসংবর্ধনায় 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালিদের ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত, নারকীয় ও পরিকল্পিত গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে আক্রমণ করে হাজার হাজার ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মানব ইতিহাসের অন্যতম এই বর্বর ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কারণে ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতটিকে 'কালরাত্রি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'-র কথা বলা হয়েছে।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। ছয় দফার প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য একটি প্রকৃত ফেডারেল কাঠামো ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ে সীমিত রাখা, দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করা, প্রদেশগুলোর ওপর কর বা রাজস্ব ধার্যের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক কর্তৃত্ব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী (প্যারা-মিলিটারি বাহিনী) গঠনের ক্ষমতা।
উদ্দীপকের নেতা রায়হান কবির বাঙালি জাতিকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রাব্যবস্থা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের যে কর্মসূচি পেশ করেন, তা হুবহু ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচির প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি একমত যে ছয় দফা কর্মসূচির পথ ধরেই চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। তবে প্রত্যক্ষভাবে নয়, বরং ছয় দফা ছিল স্বাধীনতার মূল চালিকাশক্তি ও ভিত্তিপ্রস্তর। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি ছিল মূলত বাঙালি জাতির বাঁচার দাবি এবং পাকিস্তানি অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট সনদ। এটিকে যথাযথভাবেই 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়। ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালি জাতি নিজেদের ন্যায্য অধিকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়।
ছয় দফার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয় এবং সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মূলত ছয় দফার ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নেয় এবং সমগ্র পাকিস্তানের মধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করলে ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবি রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার দাবিতে। পরিশেষে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হওয়া নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
সুতরাং বলা যায়, ছয় দফা কর্মসূচিই ছিল বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত ভিত্তিপ্রস্তর; এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার মহাসড়কে পদার্পণ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও