ব্যবসায় উদ্যোগ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

এস.এস.সি পাস করার পর জলিল আর্থিক সমস্যার কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেনি। প্রতিবেশী এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি ক্যাটারিং সার্ভিসের ওপর একটি ছয় মাসের কোর্স করেন। পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করে মনোরম পরিবেশে একটি খাবার হোটেল দেন। তার হোটেলের সৌন্দর্য ও খাবারের মান ভালো হওয়ায় প্রচুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে তিনি তার হোটেলে শিফট চালু করেন। দুই শিফটের জন্য তিনি বর্তমানে ২০জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। তার সফলতা দেখে অনেকে এখন আত্ম-কর্মসংস্থানের দিকে মনোনিবেশ করেন।

  1. ক)

    উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    কুটিরশিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জলিলের কাজটি কোন শিল্পের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে জলিলের কাজটির অর্থনৈতিক ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে পণ্য উৎপাদন, সংযোজন বা প্রক্রিয়াকরণ হয় এবং স্থায়ী সম্পদের মূল্য (জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া) ৫০ কোটি টাকার বেশি বা শ্রমিক ৩০০ জনের বেশি, তাকে উৎপাদনমুখী বৃহৎ শিল্প বলে।

  2. খ)

    কুটির শিল্প হলো পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার কম এবং পারিবারিক সদস্য নিয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫ জনের বেশি নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন মিলে এটি পরিচালনা করে। যেমন: মৃৎশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ, তাঁতশিল্প।

  3. গ)

    জলিলের কাজটি সেবা শিল্পের অন্তর্গত।

    যন্ত্রপাতি, স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহার করে যেসব সেবামূলক কাজ করা হয়, সেগুলো সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: পর্যটন, হাসপাতাল, পরিবহন। জলিল ক্যাটারিং প্রশিক্ষণ নিয়ে মনোরম পরিবেশে খাবার হোটেল চালু করেছেন, যেখানে তিনি খাবার ও সেবা বিক্রি করেন। এছাড়া ২০ জন কর্মচারী নিয়ে এটি পরিচালিত হচ্ছে, তাই শ্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী এটি সেবা খাতের ক্ষুদ্র শিল্পের (১৬–৫০ জন) পর্যায়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    জলিলের হোটেল ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তিনি দুই শিফটে ২০ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। এতে বেকারত্ব কমছে এবং কর্মীদের আয় বাড়ছে।
    ২. আত্মকর্মসংস্থানে অনুপ্রেরণা: জলিলের সফলতা দেখে অনেকেই আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, যা দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
    ৩. সম্পদের সদ্ব্যবহার ও আয় বৃদ্ধি: পারিবারিক জমি বিক্রির অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি উৎপাদনশীল কাজ শুরু করেছেন। বিক্রয়ের মাধ্যমে তিনি আয় করছেন এবং ব্যবসায়ের মাধ্যমে সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও জাতীয় আয় বাড়ে।
    ৪. সহায়ক খাতের বিকাশ: হোটেলের কাঁচামাল সরবরাহ, পরিবহন প্রভৃতি খাতও এর সাথে উপকৃত হয়।

    সুতরাং, জলিলের হোটেল ব্যবসায় কর্মসংস্থান, আয় ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন