বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরবর্তী রামাল্লার একটি গ্রামে এক নারী ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি যুদ্ধে ব্যবহৃত খোলস ব্যবহার করে তা দিয়ে ফুল চাষ করে সাজিয়ে তুলেছেন নিজের বাগান। এ যেন এক অভিনব প্রতিবাদ যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে। যে গ্রেনেড যুদ্ধে কেবল ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হয় সেই গ্রেনেডের খোলসে ফুলের চাষ যেন অস্ত্র, রক্ত আর ক্ষমতার দাপটে গড়ে ওঠা আধুনিক বিশ্বের ভয়াবহতার মুখে চপেটাঘাত। আর এই আঘাত যেন যুদ্ধের বদলে ভালোবাসার জবাব।

  1. ক)

    অমোঘ অনন্য অস্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    'সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি' বলতে কবি কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে 'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবির দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক এবং 'সেই অস্ত্র' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে 'যুদ্ধ নয় শান্তি, অস্ত্র নয় ভালোবাসা'- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কবি শামসুর রাহমানের মতে অমোঘ অনন্য অস্ত্র হলো 'ভালোবাসা'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি' বলতে কবি মানবজাতির জন্য একটি শান্তিময়, যুদ্ধহীন, নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন এবং অঙ্গীকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

    সভ্যতার বিকাশ মূলত মানুষের কল্যাণ ও শান্তির জন্য ঘটেছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে মানুষ সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে মারণাস্ত্র তৈরি ও যুদ্ধবিগ্রহে মত্ত হয়েছে, যা মানবজাতির অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। কবি প্রত্যাশা করেন এমন এক পৃথিবী, যেখানে অস্ত্রের দাপট নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবতার জয়গান থাকবে। সেই সার্বজনীন মানবিক অঙ্গীকারকেই কবি 'সভ্যতার সেই প্রতিশ্রুতি' বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ফিলিস্তিনি নারীর যুদ্ধবিরোধী ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির সাথে 'সেই অস্ত্র' কবিতার কবির শান্তিকামী দৃষ্টিভঙ্গির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের ফিলিস্তিনি নারী যুদ্ধের ধ্বংসলীলার প্রতীক গ্রেনেডের খোলসকে ফুল চাষের টবে পরিণত করেছেন। এটি কেবল কোনো ফুলবাগান নয়, বরং সংঘাত ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে ভালোবাসা এবং জীবনের বিজয়ের এক অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ। তিনি ধ্বংসের হাতিয়ারকে রূপান্তর করেছেন জীবনের আশ্রয়ে।

    'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি শামসুর রাহমানও একইভাবে যুদ্ধ ও মারণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ভালোবাসার চিরন্তন অস্ত্রকে চেয়েছেন। কবির চাওয়া সেই অস্ত্র কোনো ধ্বংসের অস্ত্র নয়, তা মানুষের মনে প্রেম জাগাবে, যুদ্ধকে স্তব্ধ করবে এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। ফিলিস্তিনি নারী যেখানে ধ্বংসের খোলস দিয়ে ফুল ফুটিয়ে হিংসার জবাব দিয়েছেন, কবিও তেমনি ভালোবাসার শক্তি দিয়ে মানবতাকে রক্ষা করতে চেয়েছেন। উভয়েরই দৃষ্টিভঙ্গি যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির প্রতিষ্ঠা এবং মারণাস্ত্রের বিপরীতে ভালোবাসার শক্তিতে বিশ্বাসী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপক এবং 'সেই অস্ত্র' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে 'যুদ্ধ নয় শান্তি, অস্ত্র নয় ভালোবাসা'"— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে সংঘাতপীড়িত ফিলিস্তিনের এক নারীর ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। তিনি যুদ্ধের প্রতীক গ্রেনেডের খোসা দিয়ে রক্ত ও অস্ত্রের ক্ষমতার বিরুদ্ধে ফুল ফুটিয়ে ভালোবাসার নীরব জবাব দিয়েছেন। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে মানুষ যুদ্ধ নয়, স্বাভাবিক এবং শান্তিময় জীবন চায়।

    অন্যদিকে, 'সেই অস্ত্র' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এমন এক 'অমোঘ অনন্য অস্ত্র' তথা ভালোবাসার সন্ধান করেছেন, যা পৃথিবীর বুক থেকে সব হিংসা, ধ্বংসযজ্ঞ ও মৃত্যুর বিভীষিকাকে চিরতরে মুছে দেবে। কবি বিশ্বাস করেন, ভালোবাসাই পারে মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে।

    অতএব, উদ্দীপকের ফিলিস্তিনি নারীর ফুলের চাষ এবং কবিতার কবির ভালোবাসার প্রার্থনা—উভয়ের লক্ষ্যই এক ও অভিন্ন। ধ্বংসের বদলে সৃষ্টি এবং হিংসার বদলে প্রেম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই মানুষ একটি সুন্দর পৃথিবীর সন্ধান পেতে পারে। সুতরাং, উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েরই পরম সত্য হলো যুদ্ধ পরিহার করে শান্তির পথ এবং অস্ত্রের বদলে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন