মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১ঃদৃশ্যকল্প-২ঃফয়সালের বাবা লক্ষ করলেন, ফয়সাল তার পড়ার বিষয়গুলো সঠিকভাবে মনে রাখতে পারছেনা। তিনি ফয়সালকে নিয়মিত চর্চা এবং রবিনসনের সূত্রের ন্যায় স্মৃতি উন্নত করার কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পরামর্শ দিলেন।
- ক)(1)
বিস্মৃতি কী?
- খ)(2)
স্মৃতির জন্য শিক্ষণ অত্যাবশ্যক কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর 'C' কে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদত্ত অন্য চারটি অনুরূপ কৌশল বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্বে অর্জিত বা শেখা কোনো বিষয় বা অভিজ্ঞতা মনে করতে বা পুনরুৎপাদন করতে ব্যর্থ হওয়াকে বিস্মৃতি (Forgetting) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মৃতির প্রথম ও প্রধান পূর্বশর্ত হলো শিক্ষণ বা শিখন। স্মৃতির অর্থ হলো অতীত অভিজ্ঞতার পুনরুত্থাপন; কিন্তু কোনো বিষয় যদি পূর্বে শিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আয়ত্ত না করা হয়, তবে তা মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। যে তথ্য কখনও শেখা বা গ্রহণ করা হয়নি, তা স্মৃতির ভাণ্ডারে জমা রাখা বা পরবর্তীতে মনে করা অসম্ভব। তাই স্মৃতি সৃষ্টি এবং স্মৃতিতে কোনো তথ্য ধরে রাখার ভিত্তি হিসেবে শিক্ষণ অত্যাবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এর 'C' দ্বারা স্মৃতির প্রক্রিয়ার তৃতীয় ও চূড়ান্ত স্তর 'পুনরুদ্ধার' বা 'পুনরূদ্ধার' (Retrieval)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
স্মৃতি প্রক্রিয়ার তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে: সংকেতায়ন (Encoding), সংরক্ষণ (Storage) এবং পুনরুদ্ধার (Retrieval)।
পুনরুদ্ধার হলো স্মৃতিভাণ্ডারে বা মস্তিষ্কে সংরক্ষিত তথ্য প্রয়োজনমতো খুঁজে বের করে চেতন মনে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া।পুনরুদ্ধারের প্রধানত দুটি রূপ রয়েছে:
১. পুনরুদ্বেগ বা স্মরণ (Recall): কোনো উদ্দীপকের অনুপস্থিতিতে অতীত অভিজ্ঞতাকে স্মৃতি থেকে সরাসরি পুনরুৎপাদন করা (যেমন—পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর লেখা)।
২. প্রত্যভিজ্ঞা বা চেনা (Recognition): পূর্বে শেখা বা দেখা কোনো বস্তুকে তার উপস্থিতিতে চিহ্নিত করতে পারা (যেমন—বহুনির্বাচনি প্রশ্নে সঠিক উত্তরটি চেনা)।সংকেতায়ন ও সংরক্ষণের পর তথ্য যদি সঠিকভাবে পুনরুদ্ধার না করা যায়, তবে স্মৃতি প্রক্রিয়া পূর্ণতা পায় না। অতএব, চিত্রে 'C' হলো স্মৃতি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ 'পুনরুদ্ধার' বা 'Retrieval' ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ রবিনসনের SQ3R পদ্ধতির ন্যায় স্মৃতি উন্নত করার কৌশলের কথা বলা হয়েছে। রবিনসনের সূত্র ছাড়াও স্মৃতি উন্নত করার আরও অনেক কৌশল রয়েছে। নিচে এমন চারটি কৌশল বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অতিশিক্ষণ (Overlearning): কোনো বিষয় বা তথ্য একবার পুরোপুরি শেখার পরও অতিরিক্ত চর্চা বা পুনরাবৃত্তি করাকে অতিশিক্ষণ বলে। অতিশিক্ষণের ফলে তথ্য দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে যায় এবং সহজে বিস্মৃত হয় না।
২. ব্যবধানযুক্ত শিখন (Spaced/Distributed Practice): কোনো বিষয় একনাগাড়ে দীর্ঘ সময় না পড়ে মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে অনুশীলন করাকে ব্যবধানযুক্ত শিখন বলে। এটি ক্লান্তি দূর করে এবং স্মৃতির ধারণক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
৩. অর্থপূর্ণ শিখন (Meaningful Learning): কোনো তথ্য মুখস্থ করার পরিবর্তে তার মূল অর্থ ও তাৎপর্য বুঝে পড়লে তা সহজে মনে থাকে। নতুন বিষয়ের সাথে পরিচিত বিষয়ের অর্থপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করলে মস্তিষ্কে তথ্যটি দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকে।
৪. স্মৃতিসহায়ক কৌশল বা নেমোনিক (Mnemonics): জটিল বা এলোমেলো তথ্য মনে রাখার জন্য ছন্দ, সংক্ষিপ্ত রূপ বা বিশেষ সংকেত ব্যবহার করাকে নেমোনিক বলে। যেমন—রংধনুর সাতটি রং মনে রাখার জন্য 'বেনীআসহকলা' ব্যবহার করা হয়।
এই কৌশলগুলো নিয়মিত অনুসরণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তিকে কার্যকরভাবে উন্নত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও