ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সাদিয়া, নাসরিন, সামারা ও নামিরাহ ৪ বন্ধু মিলে একটি কফিশপ চালাবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। নামিরাহ কফিশপে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে নি। তবে তার প্রাক্তন কফিশপ 'নামিরাইন্স' এর নাম সে এ ব্যবসায়ে ব্যবহার করতে দিয়েছে। কফিশপটি ভালো চলছে এবং অর্জিত মুনাফা চার জনে ভাগ করে নেয়। পরে নাসরিন স্থায়ীভাবে আমেরিকায় চলে যাওয়াতে তার ১৬ বছরের ছেলে নাহলকে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাকি ৩ জন সম্মত হয়। এক বছর প্রতিষ্ঠানের ৩০,০০০ টাকা লোকসান হয়। কিন্তু নাহল কোনো দায় নেয় না।
- ক)(1)
সামাজিক ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
বাণিজ্যের মাধ্যমে কীভাবে কালগত বাধা দূর করা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'নামিরাইন্স' কফিশপ কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নাহলের দায় অস্বীকার করার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে সমাজের কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিনিয়োগ ফেরতযোগ্য কিন্তু লভ্যাংশহীন ব্যবসায়কে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যের অন্যতম শাখা গুদামজাতকরণের মাধ্যমে কালগত বা সময়গত বাধা দূর করা যায়। পণ্য উৎপাদনের সময় এবং তা ভোগের সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকে। গুদামজাতকরণের মাধ্যমে এক মৌসুমের উৎপাদিত পণ্য অন্য মৌসুমে বা সারা বছর ধরে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করে পণ্যের উপযোগ সৃষ্টি ও কালগত বাধা দূর করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'নামিরাইন্স' কফিশপটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাদিয়া, নাসরিন, সামারা ও নামিরাহ চার বন্ধু মিলে মুনাফা বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে 'নামিরাইন্স' কফিশপ চালু করেন। এখানে নামিরাহ মূলধন বিনিয়োগ না করলেও তার সুনাম ও ব্যবসায়িক নাম ব্যবহারের সুযোগ দেন, যা অংশীদারি ব্যবসায়ের নামমাত্র অংশীদারের বৈশিষ্ট্য। যেহেতু তাঁরা চুক্তির ভিত্তিতে যৌথভাবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন, তাই এটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাহলের দায় অস্বীকার করা সম্পূর্ণভাবে আইনসম্মত ও যৌক্তিক।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে কেবল ব্যবসায়ের সুযোগ-সুবিধার বা মুনাফার অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক অংশীদারের দায় ব্যবসায়ে তার স্বার্থ বা অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; অর্থাৎ ব্যবসায়ের কোনো লোকসান বা ঋণের জন্য সে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হয় না।
উদ্দীপকে নাসরিন আমেরিকায় চলে যাওয়ার পর তাঁর ১৬ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নাহলকে অন্য তিন অংশীদার ব্যবসায়ের সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ব্যবসায়ে ৩০,০০০ টাকা লোকসান হলে নাহল তা বহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। যেহেতু নাহলের বয়স মাত্র ১৬ বছর (১৮ বছরের কম), তাই আইনের দৃষ্টিতে সে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অংশীদার। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে তার কোনো ব্যক্তিগত দায় থাকে না। সুতরাং, আইন অনুযায়ী লোকসানের বিপরীতে নাহলের দায় অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও