ইসলাম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: পাবনার জরিনা বেগম তার নবজাতক পুত্রসন্তান সারওয়ারকে উত্তম পরিচর্যা ও বিশুদ্ধ খাঁটি বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য বগুড়া শহরের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে প্রেরণ করেন। পাঁচ বছরের মধ্যে শিশুটি বাংলা ভাষার ওপর উত্তম দখল অর্জন করে।দৃশ্যকল্প-২: ইতিহাস পড়ে জনাব করিম জানতে পারেন যে, দীর্ঘদিন ধরে দুটো গোত্রের মাঝে যুদ্ধ চলার কারণে সৌদি আরবের একটি ভূখণ্ডের শান্ত ও নির্মল পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে। অতঃপর ৬২২ খ্রি. একজন মহামানবের মধ্যস্থতায় চিরদিনের জন্য সে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। পরিশেষে সকল গোত্রের সম্মতিতে লিখিত সংবিধানের আলোকে একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়।
- ক)(1)
যুননুরাইন কী?
- খ)(2)
জাবির ইবনে হাইয়ানকে রসায়নশাস্ত্রের জনক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের কোন অংশটুকু প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের কোনো এক ঘটনার সাথে দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত ঘটনার সাথে মিল খুঁজে পাও? যৌক্তিক উত্তর দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যুননুরাইন অর্থ দুই নূরের অধিকারী। এটি তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা)-এর উপাধি।
- খ)
জাবির ইবনে হাইয়ান মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী। তিনি রসায়নকে অনুমানভিত্তিক ধারণা থেকে পরীক্ষানির্ভর বিজ্ঞানে রূপ দেন। তিনি পাতন, দ্রবণ, পরিস্রবণ, স্ফটিকীকরণ ও বাষ্পীভবনের মতো প্রক্রিয়া উদ্ভাবন বা উন্নত করেন এবং রসায়নের ওপর গ্রন্থ রচনা করেন। এসব অবদানের কারণে তাঁকে রসায়নশাস্ত্রের জনক বলা হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ মুহাম্মদ (স)-এর শৈশবকালে ধাত্রীমাতা হালিমার কাছে লালন-পালন অংশটুকু প্রকাশ পেয়েছে।
আরবের অভিজাত পরিবারে নবজাতককে গ্রামে বেদুইন ধাত্রীমাতার কাছে পাঠানোর রীতি ছিল, যাতে শিশু বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শেখে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বড় হয়। মহানবি (স)-কেও বনু সা'দ গোত্রের হালিমার কাছে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি উন্মুক্ত মরু পরিবেশে বড় হন এবং বিশুদ্ধ আরবি ভাষা আয়ত্ত করেন। উদ্দীপকে সারওয়ারকে বিশুদ্ধ বাংলা শেখানোর জন্য বগুড়ার ডে কেয়ার সেন্টারে পাঠানোর ঘটনাটি এর সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনার সাথে মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মদিনা সনদ ও মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনার মিল পাওয়া যায়।
যুক্তি:
১. গোত্রীয় যুদ্ধ: মদিনায় আউস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলছিল, যা শহরের শান্তি নষ্ট করেছিল। উদ্দীপকের দুই গোত্রের যুদ্ধের সাথে এটি মেলে।
২. ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ: এ বছর মহানবি (স) হিজরত করে মদিনায় যান। তাঁর নেতৃত্ব ও মধ্যস্থতায় গোত্রগুলোর বিরোধ বন্ধ হয়।
৩. লিখিত সংবিধান: তিনি মুসলমান, ইহুদি ও অন্য গোত্রের সম্মতিতে মদিনা সনদ নামে লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকের 'সকল গোত্রের সম্মতিতে লিখিত সংবিধান'-এর সাথে এটি মেলে।
৪. রাষ্ট্র গঠন: এই সনদের ভিত্তিতে মদিনায় একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠিত হয়।সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনা মহানবি (স)-এর মদিনা সনদ ও মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও