কৃষিশিক্ষা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
নির্মল কান্তি বিএ পাশ করার পর চাকুরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছিলেন। তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাবার পুরানো পুকুরটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেন। পুকুরটিকে আদর্শ পুকুরে পরিণত করতে বিশেষ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন এবং মাছ চাষে যথেষ্ট লাভবান হন।
- ক)(1)
প্লাংকটন কী?
- খ)(2)
সেক্কিডিস্ক দিয়ে পানি পরীক্ষা করতে হয় কীভাবে?
- গ)(3)
নির্মল কান্তি কীভাবে পুরানো পুকুরকে উপযুক্ত করবেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নির্মল কান্তি কোন বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে লাভবান হন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পানিতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণীকে প্লাংকটন বলে।
- খ)
সেক্কিডিস্ক হলো একটি গোলাকার ডিস্ক, যা দড়িতে বেঁধে পানি পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার ধাপ নিচে দেওয়া হলো।
১. ডিস্কটি পুকুরের পানিতে ধীরে ধীরে ডুবাতে হয় এবং যে গভীরতায় ডিস্কটি আর দেখা যায় না, তা মাপতে হয়।
২. এরপর ডিস্কটি উপরে তুলতে হয় এবং যে গভীরতায় প্রথম দেখা যায়, তা মাপতে হয়।
৩. দুই মাপের গড় হলো পানির স্বচ্ছতা। এটি প্লাংকটনের পরিমাণ বোঝায়; সাধারণত ২৫–৪০ সেমি হলে ভালো ধরা হয়। - গ)
নির্মল কান্তি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পুরানো পুকুরটি সংস্কার করেন। পুরানো পুকুর মাছ চাষের উপযোগী করতে তাকে নিচের কাজগুলো করতে হবে।
১. পাড় মেরামত: পুকুরের ভাঙা পাড় মেরামত করে উঁচু করতে হবে, যাতে বন্যায় মাছ বেরিয়ে না যায়।
২. আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার: পুকুরের পাড় ও পানির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
৩. রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা: পানি সেচে বা রোটেনন প্রয়োগ করে এসব মাছ সরাতে হবে।
৪. কাদা তোলা ও চুন প্রয়োগ: পুকুরের তলার বাড়তি কাদা তুলে চুন দিতে হবে, যা পানির অম্লত্ব ও জীবাণু কমায়।
৫. সার ও পানি: জৈব ও অজৈব সার দিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করতে হবে এবং পানি ভরতে হবে। - ঘ)
নির্মল কান্তি পুকুরটিকে আদর্শ পুকুরে পরিণত করতে নিচের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে লাভবান হন।
১. পুকুরের অবস্থান ও আকার: পুকুর এমন স্থানে হতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বাতাস পায়। পুকুর বন্যামুক্ত এবং উপযুক্ত আকার ও গভীরতার হতে হবে।
২. মাটি ও পানির সরবরাহ: পুকুরের তলা ও মাটি পানি ধরে রাখার উপযোগী (এঁটেল বা দোআঁশ) হতে হবে এবং সারা বছর পানির নিশ্চিত উৎস থাকতে হবে।
৩. পুকুর প্রস্তুতি: আগাছা, রাক্ষুসে মাছ দূর করা, চুন ও সার প্রয়োগে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য বাড়ে এবং পানির গুণাগুণ ভালো থাকে।
৪. সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা: মাছের উপযুক্ত পোনা মজুত, নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রদান ও পানির মান পরীক্ষা করলে মাছ দ্রুত বাড়ে।
সুতরাং, এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে এবং নির্মল কান্তি যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও