অর্থনীতি • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি প্রশ্ন
দীর্ঘবিশ বছর পর দেশে এসে গ্রামের বাড়িতে-যাওয়ার সময় সুমন লক্ষ করলো অনেক পরিবর্তন। ব্যাপকভাবে রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মিত হয়েছে। মানুষও আগের চেয়ে সচেতন ও শিক্ষিত হয়েছে। এদেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা এসেছে। স্কুল শিক্ষক বন্ধুকে এই বিষয় জিজ্ঞাসা করলে সে বলে এখনও যে s প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে তা দূর করলে দেশটি দ্রুত উন্নত দেশে পরিণত হবে।
- ক)(1)
উন্নত দেশ বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
সুমনের দেশটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে কোন শ্রেণিভুক্ত? তার বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিবন্ধকতাগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে দেশের মাথাপিছু আয় বেশি, জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং অর্থনীতির সকল খাত অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, তাকে উন্নত দেশ (Developed Country) বলে।
- খ)
অর্থনৈতিক উন্নয়ন (Economic Development) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং মাথাপিছু প্রকৃত আয় দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে থাকে।
শুধু উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন হয় না। এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আয়বণ্টন ও জীবনযাত্রার মানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন হলো অর্থনীতির পরিমাণগত ও গুণগত উভয় ধরনের পরিবর্তন।
- গ)
উদ্দীপকে রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মাণ এবং মানুষের শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেও বন্ধু বলেছেন এখনও প্রতিবন্ধকতা আছে, যা দূর হলে দেশটি উন্নত হবে। তাই সুমনের দেশটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing Country) শ্রেণিভুক্ত।
উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য:
১. মাথাপিছু আয় উন্নত দেশের তুলনায় কম।
২. কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা তুলনামূলক বেশি এবং শিল্পায়ন ক্রমে বাড়ছে।
৩. জনসংখ্যা বেশি এবং বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিদ্যমান।
৪. মূলধন গঠনের হার কম এবং প্রযুক্তি তুলনামূলক পিছিয়ে।
৫. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। - ঘ)
উদ্দীপকে সুমনের বন্ধু যে প্রতিবন্ধকতার কথা বলেছেন, তা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। পাঠ্যবইয়ের আলোকে প্রতিবন্ধকতাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মূলধনের স্বল্পতা: সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কম হওয়ায় নতুন শিল্প ও অবকাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়।
২. দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বেকারত্ব: জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় মাথাপিছু আয় বাড়ে না এবং কর্মসংস্থানের চাপ তৈরি হয়।
৩. অনগ্রসর প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাব: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতিতে উৎপাদনশীলতা কম থাকে।
৪. অবকাঠামোগত দুর্বলতা: যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও পরিবহনের সীমাবদ্ধতা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বাধা দেয়।
৫. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সুশাসনের অভাব: দুর্নীতি ও অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।
৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি উৎপাদন ও সম্পদের ক্ষতি করে।সুতরাং, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলে সুমনের দেশটি দ্রুত উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও