বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর সদর দপ্তর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ ঢাকার বেশকিছু জায়গায় একযোগে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরদিন অর্থাৎ ২৬শে মার্চের ঢাকা ছিলো স্তম্ভিত, শোকার্ত ও ভয়াল এক নগরী। কারফিউ থাকলেও তার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন অলিগলি পাড়ি দিয়ে শহর ছাড়তে শুরু করেছিল। শহরে কোনো ধরনের পরিবহন ছিলো না। মানুষ হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিল। কারও সাথে দেখা হলেও মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না।
- ক)(1)
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম কী?
- খ)(2)
'রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইন্টার, আমাদের জেনারেল মনসুন।' উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশিত হয়নি।" মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম নূরুল হুদা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার প্রচণ্ড শীত যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বর্ষাকালও পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় সহায়ক হয়েছিল বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।
রাশিয়ার বরফাবৃত শীতের কারণে আক্রমণকারী সেনাবাহিনী চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল, যাকে প্রতীকী অর্থে 'জেনারেল উইন্টার' বলা হয়। একইভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বর্ষার প্রবল বৃষ্টি, কাদা এবং নদী-নালার রূপ পাকিস্তানি হানাদারদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ চালাতে সুবিধা করে দেয়। এ কারণেই গল্পের কথক বর্ষাকালকে পাকিস্তানিদের প্রতিরোধকারী শক্তি হিসেবে 'জেনারেল মনসুন' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'রেইনকোট' গল্পের একাত্তরের অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত, ভীতসন্ত্রস্ত ও থমথমে পরিবেশের সাদৃশ্য রয়েছে।
'রেইনকোট' গল্পে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবরুদ্ধ জীবনের এক করুণ ও ভীতিপূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন, তল্লাশিচৌকি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করা চরম আতঙ্ক পুরো শহরকে স্থবির ও নিঃশব্দ করে রেখেছিল। মানুষের মনে স্বাভাবিক চলাচলের সাহস ছিল না; সবার মধ্যেই চাপা ভয় কাজ করত।
উদ্দীপকেও ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের বর্বর গণহত্যার পরদিন ২৬শে মার্চের স্তব্ধ, শোকার্ত ও ভীতিকর ঢাকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কারফিউয়ের মধ্যে প্রাণভয়ে মানুষের শহর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা, পরিবহনের শূন্যতা এবং আতঙ্কে কারও মুখ দিয়ে কথা না বের হওয়ার যে বর্ণনা রয়েছে, তা 'রেইনকোট' গল্পে চিত্রিত অবরুদ্ধ ঢাকার মানসিক বিপর্যয় ও ভয়ার্ত পরিস্থিতির সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের সামগ্রিক চিত্র প্রকাশিত হয়নি"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মূলত ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের গণহত্যার পরদিন ঢাকা শহরের মানুষের আতঙ্ক, শোকার্ত অবস্থা এবং শহর ছেড়ে পলায়নের প্রাথমিক বিপর্যয়কর মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মানুষের অসহায়ত্ব ও ভয়ার্ত প্রতিক্রিয়াই প্রধান।
অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পে শুধু অবরুদ্ধ শহরের ভীতি ও পলায়নপরতাই দেখানো হয়নি, বরং এর চেয়েও গভীরে গিয়ে সাধারণ ভীতু মানুষের অন্তরে দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি একাত্মতা জাগ্রত হওয়ার রূপান্তর দেখানো হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র কলেজ শিক্ষক নূরুল হুদা ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ ও ভীতু প্রকৃতির। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর তাঁর মধ্যে এক আশ্চর্য মানসিক রূপান্তর ঘটে। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম শারীরিক নির্যাতনের মুখেও তিনি কোনো সহকর্মী বা মুক্তিযোদ্ধার তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং চরম দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাসে নিজেকে মুক্তিসংগ্রামের অংশীদার মনে করে গর্ববোধ করেছেন।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মমতার মুখে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব ও আতঙ্কটুকুই এসেছে; কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পের মূল সুর—রেইনকোটের প্রতীকী শক্তিতে ভীতু সাধারণ মানুষের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হওয়া এবং সামগ্রিক প্রতিরোধচেতনার দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গল্পটির সামগ্রিক চিত্র প্রকাশিত হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও