ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুন গার্মেন্টস-এর শ্রমিকরা তাদের নিজেদের কল্যাণার্থে কারখানা গেইটের সামনে একটি দোকান স্থাপন করে। এ দোকানের মালিক তারা এবং ক্রেতাও। তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ব্যবসায়টি চালায়। প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিনিয়োগ যাই হোক না কেন প্রত্যেকের অংশগ্রহণ থাকে সমান। তারা তাদের সংগঠন থেকে বিবিধ সহায়তা পেয়ে থাকে।
- ক)(1)
সমবায় সমিতির 'উপবিধি' কী?
- খ)(2)
বহুমুখী সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
'সকল অংশীদারের সমান অংশগ্রহণ' -এতে সমবায়ের কোন নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সংগঠনটি থেকে শ্রমিকেরা কী কী সুবিধা পাচ্ছে বলে তুমি মনে করো? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও নিয়মকানুন সংক্রান্ত লিখিত দলিলকে সমবায় সমিতির উপবিধি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সমবায় সমিতি সদস্যদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে কোনো একক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক উদ্দেশ্য বা বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদন করে, তাকে বহুমুখী সমবায় সমিতি বলে।
এ ধরনের সমিতি সদস্যদের শুধু ঋণদান বা সঞ্চয় বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং একসাথে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, ভোগ্যপণ্য বিপণন, কুটির শিল্পের কাঁচামাল প্রদান ও অন্যান্য যৌথ সুবিধাদি প্রদান করে সদস্যদের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'সকল অংশীদারের সমান অংশগ্রহণ'-এ সমবায় সমিতির 'গণতান্ত্রিক নীতি' বা 'গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
সমবায়ের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো গণতন্ত্র। এই নীতি অনুযায়ী, সমবায় সমিতিতে শেয়ারের সংখ্যা বা মূলধনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, প্রতিটি সদস্যের ভোটাধিকার এবং মত প্রকাশের অধিকার সমান থাকে। এখানে 'একজন সদস্য, একটি ভোট' নীতি কার্যকর হয়, যা আক্ষরিক অর্থেই সমান অংশীদারিত্ব ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রকাশ।
উদ্দীপকে মুন গার্মেন্টস-এর শ্রমিকরা মিলে যে দোকানটি গড়ে তুলেছে, সেখানে বিনিয়োগ যাই হোক না কেন প্রত্যেকের সমান অংশগ্রহণ থাকে এবং তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন করে। মূলধনের ভিত্তিতে বৈষম্য না করে সবাইকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া সমবায়ের গণতান্ত্রিক নীতিকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমবায় সংগঠনটি (ভোক্তা সমবায় সমিতি) থেকে শ্রমিকেরা নানাবিধ আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সুবিধা পাচ্ছে।
উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমিকদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তি: শ্রমিকরা নিজেরাই এ দোকানের মালিক ও ক্রেতা। ফলে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মুনাফার দৌরাত্ম্য না থাকায় তারা সাশ্রয়ী মূল্যে ভেজালমুক্ত ও প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে ক্রয় করতে পারছে।
২. মুনাফার সুষম বণ্টন: দোকানটির সার্বিক মুনাফা সদস্যদের মাঝে তাদের ক্রয় বা শেয়ার অনুযায়ী বণ্টন করা হয়, যা শ্রমিকদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ায়।
৩. পারস্পরিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা: সংগঠনটি শ্রমিকদের নিজেদের কল্যাণে গঠিত হওয়ায় যেকোনো জরুরি বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠন থেকে তারা আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা পেয়ে থাকে।
৪. গণতান্ত্রিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশ: নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হওয়ায় শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছে, যা তাদের আত্মমর্যাদা ও একতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
অতএব, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত এই সমবায় দোকান শ্রমিকদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ঐক্য সুদৃঢ় করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও