সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
ভেতরে আমার বাঁশিটি বাজে না আর,ওড়ে না পাখি আঁকাবাঁকা সাদা ঝাঁক,নদী জলের ঢেউগুলো নির্বাক,ভেতরে আমার ভেঙে পড়ে শুধু পাড় !
- ক)(1)
কবিভক্ত কবির কাছে কী শোনার মিনতি করে?
- খ)(2)
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটিকে নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুর সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“কবিতাংশটুকুর কবির দহন যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অন্তর্দহন।”- মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবিভক্ত কবির কাছে বসন্তের নতুন গান বা ফাগুনের বন্দনাগান শোনার মিনতি করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটিতে কবি ও কবির ভক্তের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে কাহিনির বিকাশ ঘটেছে। নাটকের মতো এখানে রয়েছে চরিত্র, সংলাপ এবং নাটকীয় উত্থান-পতন ও রহস্যময় বিষাদ। পুরো কবিতাটি সংলাপ-নির্ভর হওয়ায় এবং কবিমনের চাপা বেদনা নাট্যরস সৃষ্টি করায় কবিতাটিকে নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুর সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার শূন্যতাবোধ, নিঃসঙ্গতা ও গভীর অন্তর্বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির অন্তরে আনন্দের কোনো বাঁশি বাজে না, পাখির ওড়াউড়ি থেমে গেছে, নদীর ঢেউ নির্বাক এবং মনের কূল ভেঙে কেবল হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ চারপাশের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্যের বিপরীতে অন্তরের গভীর স্তব্ধতা ও হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে।
একইভাবে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্ত ঋতুর সমারোহ ও পুষ্পবিকাশ থাকলেও কবির মনে কোনো উল্লাস নেই। প্রিয়জন হারানোর তীব্র শোকে কবির অন্তরে বিরাজ করছে শূন্যতা ও হাহাকার। প্রকৃতির বসন্ত বন্দনা কবিকে স্পর্শ করতে পারে না। উদ্দীপকের অন্তরের বাঁশি না বাজা এবং নদীজলের ঢেউ নির্বাক হওয়ার বিষয়টি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির আনন্দহীনতা ও অন্তর-বেদনার সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“কবিতাংশটুকুর কবির দহন যেন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অন্তর্দহন।”— মূল্যায়নটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির অন্তরের আনন্দ-উল্লাস হারিয়ে গিয়ে সেখানে কেবলই শূন্যতা, ভাঙন ও স্তব্ধতা ভর করেছে। বাঁশি না বাজা এবং নদীর ঢেউ স্তব্ধ হওয়ার রূপকের মাধ্যমে কবির চরম মানসিক বিপর্যয় ও বেদনার দহন রূপায়িত হয়েছে।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। বাইরে ফাল্গুনের পুষ্পশোভা, দখিনা সমীরণ ও প্রকৃতির অপরূপ উৎসব থাকলেও কবির হৃদয়জুড়ে এক মর্মান্তিক রিক্ততা বিরাজমান। প্রকৃতির উৎসবমুখর পরিবেশ কবির অন্তরের রিক্ততাকে মুছে দিতে পারে না; বরং তাঁর ভেতরে স্মৃতিবেদনার দহন আরো তীব্র হয়ে ওঠে। কবি কোনোভাবেই বসন্তকে বরণ করে নিতে পারেন না, কারণ তাঁর মন আচ্ছন্ন হয়ে আছে প্রিয়হারা বিষাদে।
উদ্দীপকের কবি যেমন আনন্দ হারিয়ে ভেতরের ভাঙনের শিকার হয়েছেন, ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবিও তেমনি শোকে মুহ্যমান হয়ে অন্তর্দহনে নীল হয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই বাইরের পৃথিবীর আনন্দকে ছাপিয়ে অন্তরের হাহাকার ও দহন মুখ্য হয়ে উঠেছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও