কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের ছকটি লক্ষ করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:

  1. ক)

    লেয়ার কী?

    (1)
  2. খ)

    হাঁস-মুরগি পালনে সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'ক' পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক উপযোগিতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে জাতের মুরগি প্রতিপালন করা হয়, তাকে লেয়ার মুরগি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাঁস-মুরগির সুস্থ বৃদ্ধি, দ্রুত শারীরিক বিকাশ এবং কাঙ্ক্ষিত ডিম ও মাংস উৎপাদনের জন্য সুষম খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান—যেমন শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে। খাদ্যে এসব উপাদানের অভাব ঘটলে হাঁস-মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং বিভিন্ন অপুষ্টিজনিত রোগ দেখা দেয়। ফলে লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনার জন্য হাঁস-মুরগিকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করা অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'ক' পদ্ধতিটি হলো ডিম ফোটানোর 'প্রাকৃতিক পদ্ধতি'।

    প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোনো যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়াই তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত দেশি কুঁচে মুরগির সাহায্যে ডিম ফোটানো হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটি নিরিবিলি, অন্ধকার ও শান্ত স্থান নির্বাচন করে সেখানে খড় বা তুষ দিয়ে একটি আরামদায়ক বাসা তৈরি করা হয়। সাধারণত একটি মাঝারি আকারের সুস্থ ও সবল কুঁচে মুরগির নিচে ১০-১২টি উর্বর ডিম বসানো যায়। মুরগিটি তার শরীরের উত্তাপ, আর্দ্রতা এবং নিয়মিত ডিম ওলট-পালট করার মাধ্যমে ভ্রূণের বিকাশ ঘটায়। এই পদ্ধতিতে সাধারণত ২১ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এটি গ্রামীণ পর্যায়ে কম খরচে ডিম ফোটানোর সহজ ও প্রচলিত একটি পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'ক' হলো প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং 'খ' হলো কৃত্রিম পদ্ধতি। নিচে এই দুটি পদ্ধতির তুলনামূলক উপযোগিতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপাদনের ব্যাপ্তি: প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে একটি মুরগির নিচে একসাথে মাত্র ১০-১২টি ডিম ফোটানো যায়, যা বাণিজ্যিক খামারের জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইনকিউবেটরের সাহায্যে একসাথে শত শত থেকে হাজার হাজার ডিম ফোটানো সম্ভব, যা বাণিজ্যিক পোলট্রি শিল্পের জন্য অপরিহার্য।

    ২. খরচ ও প্রযুক্তি: প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না, ফলে ব্যয় অত্যন্ত কম এবং গ্রামীণ গৃহস্থালি পর্যায়ে এটি সহজে বাস্তবায়নযোগ্য। অপরদিকে, কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইনকিউবেটর ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বা তাপ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হয়, যার প্রাথমিক স্থাপন ও পরিচালনা ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

    ৩. নির্ভরযোগ্যতা ও নিয়ন্ত্রণ: কৃত্রিম পদ্ধতিতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে ডিম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং একসাথে সমবয়সী অনেক বাচ্চা পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কুঁচে মুরগির আচরণের ওপর নির্ভর করতে হয়; মুরগি অসুস্থ হলে বা তা দেওয়া ছেড়ে দিলে ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

    ৪. সার্বক্ষণিক প্রাপ্যতা: প্রাকৃতিক পদ্ধতি কুঁচে মুরগির সহজলভ্যতার ওপর নির্ভরশীল, যা সবসময় পাওয়া যায় না। কিন্তু কৃত্রিম পদ্ধতিতে বছরজুড়ে যেকোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ডিম ফোটানো সম্ভব।

    অতএব, পারিবারিক পর্যায়ে অল্প খরচে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি কার্যকর হলেও, বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক লাভের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম পদ্ধতির উপযোগিতা অনেক বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন