বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
“যত দিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।"
- ক)(1)
“সিরাজের পতন কে না চায়”—সংলাপটি কার ?
- খ)(2)
“ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন”–কে, কেন বলেছে?
- গ)(3)
“উদ্দীপকের শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ”—ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক ভাব ধারণ করে মাত্র।" —মুল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সিরাজের পতন কে না চায়”—সংলাপটি ঘসেটি বেগমের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি ফরাসি সেনাপতি মঁসিয়ে লা করেছেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক ইংরেজদের ওপর আক্রমণ ও কলকাতা বিজয়ের পর ইংরেজদের পলায়নপর কাপুরুষোচিত আচরণকে ব্যঙ্গ করে তিনি এ কথা বলেছেন।
সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ার পর ইংরেজরা নানা ঔদ্ধত্য ও নিয়ম লঙ্ঘন করতে শুরু করে। নবাব কঠোর হাতে তাদের দমন করে কলকাতা আক্রমণ ও অধিকার করেন। সেই সময় ইংরেজদের বীরত্বের অহংকার চূর্ণ হয়ে যায় এবং গভর্নর ড্রেকসহ ইংরেজরা পালিয়ে জাহাজে আশ্রয় নেয়। ইংরেজদের এই শোচনীয় ও ভীতসন্ত্রস্ত পলায়ন দেখেই মঁসিয়ে লা ব্রিটিশদের অহংকারকে বিদ্রূপ করে মন্তব্যটি করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেখ মুজিবুর রহমানের দেশপ্রেম 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজের গভীর স্বদেশপ্রেম ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। ইংরেজদের আগ্রাসী মনোভাব ও স্বদেশি কুচক্রীদের চক্রান্ত সম্পর্কে অবগত হয়েও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন। সিংহাসন রক্ষা করার চেয়েও তাঁর কাছে প্রধান ছিল দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা।
উদ্দীপকের কবিতাংশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিরভাস্বর কীর্তি ও অবদানের কথা বলা হয়েছে, যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। দেশমাতৃকাকে ভালোবাসা এবং জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিঃস্বার্থ সংগ্রাম—উভয় নায়কের দেশপ্রেমের এই মূল চেতনায় সিরাজউদ্দৌলা ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আংশিক ভাব ধারণ করে মাত্র"— মন্তব্যটি যথার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ।
উদ্দীপকের চরণ দুটিতে কেবল একজন মহান নেতার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) অবিনশ্বর কীর্তি এবং দেশপ্রেমের মহিমাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের দেশপ্রেমের অনুভূতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সিরাজউদ্দৌলাও তাঁর আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের কারণে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।
কিন্তু সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কেবল দেশপ্রেমের একমুখী প্রকাশ নয়; বরং এটি একটি বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি। নাটকে একদিকে যেমন রয়েছে সিরাজউদ্দৌলা, মীরমদন, মোহনলাল ও মিরমর্দানের মতো দেশপ্রেমিকদের ত্যাগ ও লড়াই, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে মীরজাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও উমিচাঁদের মতো চক্রান্তকারীদের কুৎসিত বিশ্বাসঘাতকতা। এছাড়া এতে ইংরেজদের ধূর্ত রাজনৈতিক কূটকৌশল, পলাশীর যুদ্ধের মর্মান্তিক পরাজয় এবং বাংলার স্বাধীনতা হরণের বেদনাদায়ক ইতিহাস বিস্তারিতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে এই কূটরাজনীতি, বিশ্বাসঘাতকতা ও জাতির ট্র্যাজেডির কোনো প্রতিফলন নেই; সেখানে শুধু মহান নেতার অবিনশ্বর কীর্তির দিকটিই উঠে এসেছে। তাই সামগ্রিক পটভূমি ও জটিলতার তুলনায় উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের একটি নির্দিষ্ট ও আংশিক ভাবকেই কেবল প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও