বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২০

বিজ্ঞান প্রশ্ন

হাসিব সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠানো হলে ডাক্তার তাকে একটি পরীক্ষা করাতে বললেন যেখানে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করা হয়। এ খবর শোনামাত্র তার বাবা বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন যিনি একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগী। তার মা খবর শুনে মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে একটি পরীক্ষা করানো হলো যাতে এক্স-রের মাধ্যমে রক্তকণিকাগুলো দেখা যায়। মাকেও অন্য একটি পরীক্ষা করানো হলো যাতে হৃদপিণ্ডে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করা যায়।

  1. ক)

    রেডিওথেরাপি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    এন্ডোসকপি যন্ত্রে অপটিক্যাল ফাইবার র্যবহৃত হয়- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ডাক্তার হাসিবকে কোন পরীক্ষাটি করতে বললেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    হাসিবের বাবা ও মাকে করানো পরীক্ষা দুটি কার্যগতভাবে ভিন্ন-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বা উচ্চশক্তির বিকিরণ ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে রেডিওথেরাপি বলে।

  2. খ)

    এন্ডোসকপি যন্ত্রে দেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য আলো ও প্রতিবিম্ব পরিবহন করতে হয়। অপটিক্যাল ফাইবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে বাঁকা পথেও কোনো ক্ষতি ছাড়া পাঠাতে পারে। ফাইবারটি সরু ও নমনীয় বলে সহজে দেহের ভেতরে ঢোকানো যায় এবং ভেতরের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। তাই এন্ডোসকপিতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    মেরুদণ্ডে আঘাতের জন্য ডাক্তার হাসিবকে এমআরআই (MRI, ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং) পরীক্ষা করতে বলেছেন।

    ১. রোগীকে একটি বড় চুম্বকীয় যন্ত্রের ভেতরে শুইয়ে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
    ২. এতে দেহের কোষে থাকা হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসগুলো চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে সারিবদ্ধ হয়।
    ৩. রেডিও তরঙ্গ পাঠালে নিউক্লিয়াসগুলো সংকেত ছাড়ে, কম্পিউটার সেই সংকেত থেকে দেহের ভেতরের নরম টিস্যু, স্নায়ু ও মেরুদণ্ডের স্পষ্ট ছবি তৈরি করে।

    এভাবে এক্স-রে ছাড়াই মেরুদণ্ডের আঘাত নির্ণয় করা যায়।

  4. ঘ)

    হাসিবের বাবার পরীক্ষাটিতে এক্স-রে ব্যবহার করে রক্তনালি ও রক্তকণিকার প্রবাহ দেখা হয় (এনজিওগ্রাফি), আর মায়ের পরীক্ষাটি হলো ইসিজি। দুটি কার্যগতভাবে ভিন্ন।

    ১. বাবার পরীক্ষা: এক্স-রে রশ্মি দেহের ভেতর দিয়ে চালিয়ে রক্তনালির ছবি তোলা হয়। এতে রক্তনালিতে বাধা বা সংকীর্ণতা আছে কি না বোঝা যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ ও বুকের ব্যথার কারণ নির্ণয়ে সহায়ক।
    ২. মায়ের পরীক্ষা (ইসিজি): এতে কোনো রশ্মি ব্যবহার না করে হৃৎপিণ্ডের ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত ইলেকট্রোড দিয়ে শনাক্ত করে গ্রাফে লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে হৃৎস্পন্দনের হার ও ছন্দের অনিয়ম ধরা পড়ে।
    ৩. প্রথমটিতে বিকিরণের সাহায্যে গঠন দেখা হয়, দ্বিতীয়টিতে বৈদ্যুতিক সংকেতের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা মাপা হয়।

    সুতরাং, পরীক্ষা দুটির নীতি ও উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ায় এরা কার্যগতভাবে আলাদা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন