ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি বৃহৎ অবকাঠামোগত পরিকল্পনা। যে পরিকল্পনাটি শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণেই অনুসৃত হবে। প্রাকৃতিক কারণে পদ্মা সেতুর নদীশাসন পরিকল্পনা ও নকশায় মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনা হয়।

  1. ক)

    সিদ্ধান্ত গ্রহণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কৌশলগত পরিকল্পনা কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    পদ্মা সেতু নির্মাণ কোন ধরনের পরিকল্পনা? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পরিকল্পনায় যে বৈশিষ্ট্যের কারণে পদ্মা সেতুতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একাধিক বিকল্প কর্মপন্থার মধ্য থেকে সর্বোত্তম বিকল্পটিকে নির্বাচন করার প্রক্রিয়াকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল পরিবেশে প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রণীত সামগ্রিক ও দিকনির্দেশনামূলক পরিকল্পনাকে কৌশলগত পরিকল্পনা বলে।

    এ ধরনের পরিকল্পনা সাধারণত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণ দীর্ঘমেয়াদে (যেমন ৫ বছর বা তার অধিক) প্রতিষ্ঠানের সুযোগ ও হুমকি এবং নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ (SWOT analysis) করে তৈরি করেন। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেওয়ার পথনির্দেশ দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পদ্মা সেতু নির্মাণ হলো একার্থক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত একটি 'প্রকল্প' (Project)।

    যে পরিকল্পনা কোনো বিশেষ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একবারের জন্য তৈরি করা হয় এবং উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া মাত্র তার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়, তাকে একার্থক পরিকল্পনা বলে। একার্থক পরিকল্পনার দুটি রূপ—কর্মসূচি এবং প্রকল্প। কোনো বৃহৎ বা স্বতন্ত্র উন্নয়নমূলক ও অবকাঠামোগত বিশেষ কাজ সম্পন্ন করতে যে একক ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে প্রকল্প বলে।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অবকাঠামোগত পরিকল্পনা, যা নির্দিষ্টভাবে শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্যই প্রণীত এবং অনুসৃত হয়েছে। এটি একবার বাস্তবায়িত হওয়ার পর একই পরিকল্পনা পুনরায় ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সুতরাং, বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণ একার্থক পরিকল্পনার আওতাধীন একটি বৃহৎ প্রকল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনায় যে বৈশিষ্ট্যের কারণে পদ্মা সেতুতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে তা হলো 'নমনীয়তা' (Flexibility), যার কার্যকারিতা অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকাকে পরিকল্পনার নমনীয়তা বলে। বাস্তবমুখী পরিকল্পনায় এ বৈশিষ্ট্যটি না থাকলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মূল লক্ষ্য চরমভাবে ব্যাহত বা ব্যর্থ হতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো একটি অতি বৃহৎ ও জটিল প্রকৌশলকাজে প্রাকৃতিক কারণ ও নদীশাসনের কারণে নকশায় মাঝে মাঝে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। নদীভাঙন, নদীর তলদেশের মাটির গঠন বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েও যদি পরিকল্পনা অনড় থাকত, তবে পুরো প্রকল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়ত।

    নমনীয়তার গুণের কারণেই প্রকৌশলী ও নীতিনির্ধারকরা বাস্তবতার আলোকে নকশা পুনর্বিন্যাস করতে পেরেছেন এবং সময়মতো প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পেরেছেন। এটি সময়, অর্থ ও সম্পদের অপচয় রোধ করেছে এবং ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন সম্ভবপর করেছে। সুতরাং, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সফলতা ও টেকসই নির্মাণে নমনীয়তার কার্যকারিতা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন