অর্থনীতি ২য় পত্র • সরকারি অর্থব্যবস্থা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশের সরকার ব্যয়ভার মেটানোর জন্য আয়কর, VAT, ভূমি রাজস্ব,যানবাহন কর, আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প, রপ্তানি শুল্ক, প্রশাসনিক ফি, সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি থেকে 'আয় করে। এছাড়াও ব্যয় সংকুলান না হলে দেশটি সহজে এবংস্বল্প সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। কোনো কোনো সময় দেশটি বিশ্বব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে।

  1. ক)

    প্রত্যক্ষ কর কী?

    (1)
  2. খ)

    কর এবং ফিকি একই ধারণা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত এবং জাতীয় রাজস্ব 'বোর্ড বহির্ভূত্ব করসমূহের একটি তালিকা তৈরি করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঋণ গ্রহণের উৎস দুটির তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা উদ্দীপক অনুসারে বিশ্লেষণ করো। ৪

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে করের আর্থিক চাপ (Impact) এবং চূড়ান্ত বোঝা (Incidence) একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়ে এবং যার ভার অন্যের ওপর চাপানো যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে (যেমন: আয়কর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, কর (Tax) এবং ফি (Fee) একই ধারণা নয়; এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    কর হলো সরকারের আরোপিত একটি বাধ্যতামূলক প্রদেয় অর্থ, যার বিনিময়ে করদাতা প্রত্যক্ষ কোনো সুবিধা দাবি করতে পারে না এবং এটি অনাদায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পক্ষান্তরে, ফি হলো এমন একটি অর্থ যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারের নিকট থেকে বিশেষ কোনো সেবা বা সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে প্রদান করে (যেমন: কোর্ট ফি, লাইসেন্স ফি)। অতএব, ফি প্রদানের সাথে প্রত্যক্ষ প্রতিদান বা সেবাপ্রাপ্তির সম্পর্ক থাকলেও করের ক্ষেত্রে তা থাকে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কর ও আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) নিয়ন্ত্রিত কর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত (Non-NBR) কর/রাজস্বের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) নিয়ন্ত্রিত করসমূহ:

    • আয়কর (Income Tax)
    • মূল্য সংযোজন কর বা VAT
    • আমদানি শুল্ক (Import Duty)
    • রপ্তানি শুল্ক (Export Duty)
    • সম্পূরক শুল্ক (Supplementary Duty)
    • আবগারি শুল্ক (Excise Duty)

    ২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত কর ও আয়ের উৎসসমূহ:

    • ভূমি রাজস্ব (Land Revenue - ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আদায়কৃত)
    • যানবাহন কর (Motor Vehicle Tax - বিআরটিএ কর্তৃক আদায়কৃত)
    • নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প (ডাক ও অন্যান্য দপ্তর কর্তৃক সংগৃহীত)
    • প্রশাসনিক ফি (কর-বহির্ভূত সরকারি রাজস্ব)।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঋণ গ্রহণের দুটি উৎসের কথা বলা হয়েছে: ১. অভ্যন্তরীণ উৎস (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) এবং ২. বৈদেশিক উৎস (বিশ্বব্যাংক)। এদের তুলনামূলক সুবিধা ও অসুবিধা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অভ্যন্তরীণ উৎস (কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ):

    • সুবিধা:
      ক. জরুরি পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে ও সহজে অর্থ সংস্থান সম্ভব হয়।
      খ. এতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বা বৈদেশিক নীতিগত কঠিন শর্তাবলি যুক্ত থাকে না।
    • অসুবিধা:
      ক. কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করলে বা নতুন মুদ্রা ছাপিয়ে সরকারকে অর্থ দিলে অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) দেখা দেয়।
      খ. সুদের হার ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত করতে পারে।

    ২. বৈদেশিক উৎস (বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ):

    • সুবিধা:
      ক. দীর্ঘমেয়াদি এবং তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত স্বল্প সুদে বা সহজ শর্তে (concessional rate) এই ঋণ পাওয়া যায়।
      খ. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়, যা দেশের বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক হয়।
    • অসুবিধা:
      ক. ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং বিভিন্ন কঠোর অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়।
      খ. বৈদেশিক মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটলে ঋণ পরিশোধের আসল ও সুদের বোঝা বহুগুণ বেড়ে যায়।

    পরিশেষে, স্বল্পমেয়াদে দ্রুত সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর হলেও দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মূলধনি প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ অর্থনৈতিকভাবে অধিক সুবিধাজনক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন