যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পরম নিয়ম কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাখ্যার প্রকৃতি উল্লেখ করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে "খ" চিহ্নিত স্থানে ব্যাখ্যার কোন বিষয়টি ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে কি পারস্পরিক সম্পর্ক আছে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব সার্বিক ও মৌলিক নিয়মকে অন্য কোনো উচ্চতর নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেগুলোকে পরম নিয়ম (Ultimate Law) বলে। যেমন- কার্যকারণ নিয়ম বা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যার মূল প্রকৃতি হলো কোনো দুর্বোধ্য, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, বোধগম্য ও সুস্পষ্ট করে প্রকাশ করা। ইংরেজি 'Explanation' শব্দটি ল্যাটিন 'Explanare' থেকে এসেছে, যার অর্থ সহজ বা সমতল করা। অর্থাৎ যে মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো অজানা বা জটিল বিষয়কে তার কার্যকারণ সম্পর্ক ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের আলোকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়, তাই হলো ব্যাখ্যা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত স্থানে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলীকরণ' (Chaining/Colligation of laws) রূপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি: বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলীকরণ ও অন্তর্ভুক্তি।

    শৃঙ্খলীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো দূরবর্তী বা প্রাথমিক কারণ এবং তার চরম কার্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ক্রমিক কারণ বা নিয়মগুলোকে একটি শিকল বা শৃঙ্খলের মতো যুক্ত করে জটিল ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ, কোনো কার্য ও কারণের মধ্যবর্তী ব্যবধানকে একাধিক মধ্যবর্তী নিয়মের ধারাবাহিক সমন্বয়ে যখন স্পষ্ট করা হয়, তখন তাকে শৃঙ্খলীকরণ বলে। উদ্দীপকের ছকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দুটি রূপ 'বিশ্লেষণ' ও 'অন্তর্ভুক্তি' উল্লিখিত হওয়ায় অবশিষ্ট অপরিহার্য রূপটি হলো 'শৃঙ্খলীকরণ' যা 'খ' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ ও অন্তর্ভুক্তির মধ্যে গভীর ও নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন জটিল বিষয়কে বৈজ্ঞানিক নিয়মের অধীনে এনে বোধগম্য করা। এই প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণ এবং অন্তর্ভুক্তি পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে:

    ১. বিশ্লেষণ (Analysis): বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো একটি জটিল ঘটনা বা মিশ্র কার্যকে তার সরল উপাদান বা পৃথক পৃথক কারণসমূহে ভেঙে ফেলা হয়। উপাদানগুলোর পৃথক কার্যকরিতা জানার মাধ্যমে ঘটনাটির আসল চরিত্র স্পষ্ট হয়।

    ২. অন্তর্ভুক্তি (Subsumption): অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কোনো কম ব্যাপক নিয়মকে অপেক্ষাকৃত বেশি ব্যাপক বা উচ্চতর সার্বিক নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। যেমন- গ্রহগুলোর গতিবিধি সংক্রান্ত কেপলারের নিয়মকে নিউটনের মধ্যাকর্ষণ নিয়মের অধীনে আনা।

    পারস্পরিক সম্পর্ক:
    একটি জটিল ঘটনাকে যখন ব্যাখ্যা করতে হয়, তখন প্রথমে 'বিশ্লেষণ'-এর মাধ্যমে ঘটনাটির উপাদানগুলো বা কারণগুলোকে আলাদা করা হয়। এরপর উপাদানগুলোকে কোনো বৃহৎ ও সাধারণ নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ দেখে সেই সার্বিক নিয়মের ভেতরে 'অন্তর্ভুক্তি'র মাধ্যমে ব্যাখ্যা সম্পন্ন করা হয়। বিশ্লেষণ ছাড়া জটিল বিষয়ের মৌলিক কার্যকারণ বোঝা সম্ভব নয়, আবার অন্তর্ভুক্তি ছাড়া সেই মৌলিক কারণগুলোকে বৃহত্তর প্রাকৃতিক নিয়মের ছায়াতলে স্থাপন করা যায় না।

    সুতরাং, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশ্লেষণ হলো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং অন্তর্ভুক্তি হলো সেই ভিত্তিকে বৃহত্তর কাঠামোর সাথে যুক্ত করা, যার ফলে উভয় রূপের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন