ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব কাইয়ুম সাহেব দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় রয়েছেন। তার স্ত্রী আসমা নিজ হাতে তাকে সময়মত খাওয়ানো, গোসল করানো ও অন্যান্য সেবা-শুশ্রুষা করেন। এতে তিনি কষ্টবোধ করেন না। অন্যদিকে, জনাব মোশাররফ হোসেনের একমাত্র ছেলে জীম লেখাপড়া শেষ করে, শহরে একটা প্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত আছে। জীম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধ পিতা-মাতার খোঁজ-খবর নেয় এবং প্রতি সপ্তাহে গ্রামের বাড়িতে যেয়ে খাবার, ঔষধ এবং অন্যান্য সকল ব্যবস্থাপনা করে আসে।
- ক)(1)
মানব সভ্যতার প্রাচীনতম সংগঠন কোনটি?
- খ)(2)
"তুমি তোমার আপনজনদের হক আদায় করে দাও।"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব কাইয়ুম সাহেবের স্ত্রীর কর্মে কীসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? তা চিহ্নিতপূর্বক ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব মোশাররফের ছেলে জীমের কর্মে যা ফুটে উঠেছে, তা চিহ্নিতপূর্বক সমাজ জীবনে এর প্রভাব, তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানব সভ্যতার প্রাচীনতম সংগঠন হলো ‘পরিবার’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটি আত্মীয়-স্বজনের অধিকার বা ‘সিলাহুর রাহিম’ (রক্তের সম্পর্কের হক) রক্ষার নির্দেশ দেয়। ইসলামে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, নিকটাত্মীয়সহ সকল আপনজনের প্রতি সদাচরণ, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করাকে অন্যতম আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আপনজনদের হক আদায় না করলে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব কাইয়ুম সাহেবের স্ত্রীর কর্মে ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য’ তথা ‘স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা ও আনুগত্য’-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইসলামী পরিবার ব্যবস্থায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। অসুস্থতা বা বিপদের সময় একে অপরের পাশে থাকা দাম্পত্য জীবনের মৌলিক দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) আদর্শ স্ত্রীর গুণাবলি হিসেবে স্বামীর সেবা ও আনুগত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
উদ্দীপকে আসমা বেগম অসুস্থ স্বামীর সার্বক্ষণিক সেবা-শুশ্রূষা করছেন কোনো প্রকার অসন্তোষ বা কষ্টবোধ ছাড়াই। এই নিঃস্বার্থ আচরণ ইসলামী জীবনাদর্শে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর নিষ্ঠাপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুন্দর নিদর্শন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব মোশাররফের ছেলে জীমের কর্মে ‘পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ ফুটে উঠেছে।
সমাজ জীবনে এর প্রভাব অপরিসীম:
১. ইসলামে পিতামাতার বাধ্য ও সেবক হওয়াকে জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম বলা হয়েছে। জীমের মতো সন্তানের কারণে সমাজে প্রবীণরা অবহেলা ও একাকীত্ব থেকে রক্ষা পান।
২. এর ফলে সমাজে বৃদ্ধাশ্রমের প্রবণতা হ্রাস পায় এবং প্রবীণদের সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
৩. পরিবারের বন্ধন সুদৃঢ় হলে তা বৃহত্তর সমাজে শান্তি, পারস্পরিক সহানুভূতি এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করে।
৪. তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার মনোভাব সৃষ্টি হয়, যা একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে সহায়ক।সুতরাং, পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, পিতামাতার প্রতি সন্তানের এই দায়িত্বশীল আচরণ সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা ও মানবিক সংকট দূর করে একটি আদর্শ ও মানবিক সমাজ উপহার দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও