অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জসিম তার বাড়ি বন্ধক রেখে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে বাঁশ ও বেতের দ্বারা বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী তৈরির কাজ শুরু করে। তাকে এ কাজে পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করে। সে স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করে। এতে ঋণ পরিশোধের পরেও তার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে।

  1. ক)

    মাইক্রো শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে PPP সহায়তা করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জসিমের উৎপাদনকে কোন ধরনের শিল্প বলা যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, যে শিল্পে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকার নিচে এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাইক্রো শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারিত্ব বা Public-Private Partnership (PPP) এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। সরকারের একার পক্ষে বৃহৎ অবকাঠামো (যেমন- সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি) নির্মাণে বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। PPP-এর ফলে বেসরকারি খাতের আর্থিক মূলধন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারি খাতের সমন্বয় ঘটে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত, মানসম্মত ও ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে বাস্তবায়িত হয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জসিমের উৎপাদনকে 'কুটির শিল্প' বলা যায়।

    অর্থনীতি ও শিল্পনীতি অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রধানত পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নিজস্ব বসতবাড়িতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সনাতন বা স্বল্প প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুত করা হয়, সেগুলোকে কুটির শিল্প বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জসিম ঋণ নিয়ে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে বাঁশ ও বেতের দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করছে। এখানে কাঁচামাল হিসেবে সহজলভ্য প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁশ-বেত ব্যবহার করা হয়েছে, উৎপাদনের স্থান পারিবারিক গৃহ এবং উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি পরিবারের সদস্যরা। সুতরাং, বৈশিষ্ট্য ও পরিচালন কাঠামোর দিক থেকে জসিমের এ উৎপাদন কার্যক্রমটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মতো শ্রমবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে কুটির শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্দীপকে উল্লিখিত জসিমের পরিচালিত বাঁশ-বেতের কুটির শিল্পের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    নিচে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ শিল্পের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস: বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় মূলধনের অভাব রয়েছে। কুটির শিল্প স্বল্প পুঁজিতে বিপুল গ্রামীণ নারী ও পুরুষের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ছদ্মবেশী বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
    ২. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: এ শিল্পে বাঁশ, বেত, পাট ও মাটির মতো স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, যা স্থানীয় সম্পদের অপচয় রোধ করে মূল্য সংযোজন ঘটায়।
    ৩. দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বণ্টন: উদ্দীপকে যেমন জসিম ঋণ পরিশোধের পরও পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে, তেমনি কুটির শিল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন: কুটির শিল্পে গৃহিণী ও মহিলারা বাড়িতে বসেই উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
    ৫. রপ্তানি আয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

    পরিশেষে বলা যায়, স্বল্প মূলধন, সীমিত ঝুঁকি ও শ্রমঘন বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে উদ্দীপকে উল্লিখিত কুটির শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন