রসায়ন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
অরবিট কী?
- খ)(2)
পিকলিং কী?ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্দীপকের C বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A ও B বিষয় দুটির ক্ষেত্রে রসায়নের ভূমিকা অপরিহার্য – যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারদিকে ইলেকট্রনসমূহ আবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের যেসকল অনড় ও অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথ বিদ্যমান, সেগুলোকে অরবিট (বা প্রধান শক্তিস্তর) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিনেগার (৪-১০% অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ) এবং লবণের দ্রবণ বা তেলের সমন্বয়ে খাদ্যদ্রব্য (যেমন: বিভিন্ন ফলমূলের আচার, শাকসবজি ইত্যাদি) প্রক্রিয়াজাত করে জীবাণুমুক্ত উপায়ে দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে পিকলিং বলে।
পিকলিং পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্যের চারপাশের পরিবেশের pH উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৪.৭৪ এর নিচে বা প্রায় ৪.০-এর কাছাকাছি নেমে আসে। এই তীব্র অম্লীয় মাধ্যমে রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ঈস্ট, মোল্ড প্রভৃতি অণুজীবের দৈহিক বৃদ্ধি এবং এনজাইমের সক্রিয়তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। ফলে খাদ্য সহজে পচে না এবং এর স্বাদ ও পুষ্টিমান দীর্ঘকাল বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' বিষয়টি হলো 'খাদ্যের পর্যাপ্ততা' (Food Availability)। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যের পর্যাপ্ততা একটি অন্যতম মৌলিক ও অপরিহার্য পূর্বশর্ত। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও FAO-এর মতে খাদ্য নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সকল মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। যদি দেশের অভ্যন্তরে মোট জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় খাদ্যের পরিমাণ পর্যাপ্ত না থাকে, তবে খাদ্য নিরাপত্তার ধারণা ব্যর্থ হয়।
২. ঘরোয়া উৎপাদন ও সরবরাহ: খাদ্যের পর্যাপ্ততা মূলত নির্ভর করে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদন, দক্ষ বিতরণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনবোধে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা আমদানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত খাদ্য প্রবাহের নিশ্চয়তার ওপর। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত না থাকলে সংকটকালীন সময়ে দুর্ভিক্ষ বা অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
৩. চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য: পর্যাপ্ত খাদ্য জোগান না থাকলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হয়, ফলে খাদ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এতে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী খাদ্য ক্রয় করতে পারে না, যা সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।
অতএব, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও ক্ষুধামুক্ত জাতি গঠনের লক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের প্রথম ও প্রধান ধাপ হিসেবে খাদ্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' বিষয়টি হলো 'খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ' এবং 'B' বিষয়টি হলো 'খাদ্য নিরাপদ মজুদ ও গুণগত মান রক্ষা'। এই উভয় ক্ষেত্রেই রসায়নের ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাদ্য উৎপাদনে রসায়নের ভূমিকা (A):
- রাসায়নিক সার প্রয়োগ: মাটির উর্বরতা রক্ষা ও উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য রসায়নের উদ্ভাবিত বিভিন্ন রাসায়নিক সার যেমন— ইউরিয়া (নাইট্রোজেন সরবরাহকারী), টিএসপি (ফসফরাস সরবরাহকারী), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP) ও পটাশ সার ব্যবহার অপরিহার্য।
- কীটনাশক ও বালাইনাশক: ফসলের রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য রাসায়নিক কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহৃত হয়, যা ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি প্রতিরোধ করে খাদ্য উৎপাদন বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।
২. খাদ্য সংরক্ষণে রসায়নের ভূমিকা (A):
- খাদ্য নষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও এনজাইমের ক্ষতিকর ক্রিয়া বন্ধ করতে রসায়নের অবদান অনস্বীকার্য। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রিজারভেটিভস (যেমন: সোডিয়াম বেনজয়েট, সরবেট, প্রোপায়োনেট) ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন: BHT, BHA, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই) ব্যবহারের মাধ্যমে পচন রোধ ও তেলের জারণজনিত বিকৃতি বা র্যান্সিডিটি ঠেকানো হয়।
৩. খাদ্যের নিরাপদ মজুদ ও গুণগত মান রক্ষায় রসায়নের ভূমিকা (B):
- নিরাপদ গুদামজাতকরণ: সাইলো ও খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত শস্যদানা যেন আর্দ্রতা ও পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট রাসায়নিক ফিউমিগ্যান্ট (যেমন: অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড) ও ধোঁয়াশাকারী যৌগ নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়।
- গুণগত মান ও বিষাক্ততা নিয়ন্ত্রণ: মজুদকৃত খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, আফলাটক্সিন (ছত্রাকঘটিত বিষ) বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য রসায়নের বিভিন্ন গুণগত ও পরিমাণগত বিশ্লেষণ (যেমন: স্পেকট্রোফোটোমেট্রি, ক্রোমাটোগ্রাফি ইত্যাদি) প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া খাদ্যের আর্দ্রতা, pH ও পুষ্টিমান পরীক্ষা রসায়নের নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়।
সুতরাং, আধুনিক কৃষিতে খাদ্যের অধিক উৎপাদন থেকে শুরু করে সঠিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ এবং গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে খাদ্য মজুদের সম্পূর্ণ চক্রে রসায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য ও অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও