গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
বেশ কয়েকদিন ধরে রকিব সাহেব কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি তাঁকে হাঁটতে ও চিনি জাতীয় খাবার পরিহার করার পরামর্শ দেন। ডাক্তার বলেন, "সুশৃঙ্খল জীবনই পারে একটি স্বাস্থ্যকর জীবন দিতে।"
- ক)(1)
ডায়াবেটিস কী?
- খ)(2)
কীভাবে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
- গ)(3)
রকিব সাহেবের জন্য কী ধরনের খাদ্য ব্যবস্থাপনা দেয়া যেতে পারে বলে তুমি মনে করো? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ডাক্তার সাহেবের বক্তব্য বিশ্লেষণপূর্বক তা যৌক্তিক কিনা লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ডায়াবেটিস হলো অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন কম নিঃসৃত হওয়া বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার একটি বিপাকজনিত রোগ।
- খ)
উচ্চরক্তচাপ নিচের উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়:
১. খাদ্যে লবণ ও চর্বি কম খাওয়া এবং শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা।
৩. ধূমপান ও তামাক পরিহার করা এবং দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমানো।
৪. ডাক্তারের পরামর্শমতো নিয়মিত ওষুধ খাওয়া ও রক্তচাপ পরীক্ষা করানো। - গ)
রকিব সাহেবকে ডাক্তার চিনিজাতীয় খাবার বর্জন করতে ও হাঁটতে বলেছেন, তাই তিনি সম্ভবত ডায়াবেটিসে ভুগছেন। তার জন্য নিচের খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপযোগী:
১. চিনি ও মিষ্টি বর্জন: চিনি, গুড়, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও মিষ্টি ফল (যেমন পাকা আম, কলা) পরিমিত বা কম খাওয়া।
২. আঁশযুক্ত খাদ্য: লাল চালের ভাত, আটার রুটি, শাকসবজি ও ডাল বেশি খাওয়া, কারণ আঁশ গ্লুকোজ ধীরে শোষণ করে।
৩. চর্বি কম: তেল-ঘি ও ভাজাপোড়া কম খাওয়া এবং মাছ, ডিমের সাদা অংশ ও চর্বিহীন মাংস খাওয়া।
৪. নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাওয়া: একসাথে বেশি না খেয়ে দিনে কয়েক বারে নির্ধারিত সময়ে খাওয়া।
৫. ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যায়াম: ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের নির্দেশমতো চলা এবং হাঁটা অব্যাহত রাখা। - ঘ)
ডাক্তারের বক্তব্য হলো, "সুশৃঙ্খল জীবনই পারে একটি স্বাস্থ্যকর জীবন দিতে।" বক্তব্যটি যৌক্তিক।
বিশ্লেষণ:
১. খাদ্য ও ঘুমের নিয়ম: সময়মতো সুষম খাবার খেলে ও পর্যাপ্ত ঘুমালে দেহের বিপাক স্বাভাবিক থাকে।
২. শারীরিক পরিশ্রম: রকিব সাহেবের ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটা রক্তের গ্লুকোজ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩. কুঅভ্যাস বর্জন: চিনি, অতিরিক্ত চর্বি, ধূমপান ও অনিয়মের মতো অভ্যাস না থাকলে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৪. মানসিক সুস্থতা: সুশৃঙ্খল জীবনে দুশ্চিন্তা কম থাকে, যা সুস্থতায় সহায়ক।অতএব, জীবনযাপনে নিয়ম মানলে দেহ ও মন সুস্থ থাকে, তাই ডাক্তারের বক্তব্য যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও