পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

সীমা একজন শিক্ষিত নারী। তিনি চাকরি করতে চাইলে তার স্বামী এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি নির্বাচনেও তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না। বরং তার স্বামীর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য হন। এভাবেই স্বাধীন দেশে বসবাস করেও সীমাকে পরাধীন হয়ে থাকতে হয়।

  1. ক)

    অধিকার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ আইনের অন্যতম উৎস"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আলোচ্য উদ্দীপকে সীমার স্বাধীনতার যে সকল দিক খর্ব হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উত্ত উদ্দীপকের আলোকে স্বাধীন দেশের একজন নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষায় তোমার সুপারিশ তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সেই সব সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

  2. খ)

    আইনের অন্যতম উৎস হলো ধর্ম। প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ রয়েছে, যেমন ইসলামে কুরআন ও সুন্নাহ। এগুলো মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ন্যায়-অন্যায়ের ধারণা দেয়। বিবাহ, উত্তরাধিকার, পারিবারিক বিষয়ে ধর্মীয় বিধান অনেক দেশে আইনের রূপ পেয়েছে। তাই ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থকে আইনের অন্যতম উৎস বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে সীমার ব্যক্তিস্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে।

    ১. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: সীমা শিক্ষিত হয়েও স্বামীর বাধার কারণে চাকরি করতে পারেন না। পছন্দমতো পেশা বেছে নিয়ে উপার্জনের সুযোগ না পাওয়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব।
    ২. রাজনৈতিক স্বাধীনতা: তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না, স্বামীর পছন্দ অনুযায়ী দিতে বাধ্য হন। এটি ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
    ৩. ব্যক্তিস্বাধীনতা: নিজের জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারাও এর অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সীমার স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্বাধীন দেশেও নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। এ বিষয়ে আমার সুপারিশ নিচে তুলে ধরা হলো।

    ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কেউ কারও স্বাধীনতায় অন্যায় হস্তক্ষেপ করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
    ২. সচেতনতা ও শিক্ষা: নারী-পুরুষ সবাইকে নিজ অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পরিবার ও সমাজে নারীর মতামত ও পেশার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
    ৩. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচন: স্বাধীন বিচার বিভাগ ও গোপন ভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করলে কেউ ভোটদানে বাধা দিতে পারবে না।

    সুতরাং, আইনের শাসন, সচেতনতা ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা পাবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন