বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১; নয়নের দাদার বাড়ি তিস্তা নদীর তীরে। প্রতিবছর বন্যার সময় নদীর দুই তীর প্লাবিত হয়। বন্যার পর নদীর তীরবর্তী ভূমিতে পলি জমার ফলে ফসল ভালো হয়। তার এলাকার লোকজন মৃৎপাত্র, আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র তৈরিতে দক্ষ। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ চমৎকার ছবি আঁকতে পারেন।দৃশ্যপট-২: 'ক' নামক একটি দেশ ভ্রমণ করে ফাহিম অবাক হলো। সেখানকার সবকিছু সাজানো-গোছানো। দেশটিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি অলিম্পিক ভিলেজ। ফাহিম যখন অলিম্পিক ভিলেজ ঘুরে দেখছিল তখন তার একটি প্রাচীন সভ্যতার কথা মনে পড়ে যায়। সে বই পড়ে জেনেছিল যে উক্ত সভ্যতার মানুষ ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্য ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।

  1. ক)

    কলোসিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    সিন্ধু সভ্যতাকে নগর সভ্যতা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-২ যে সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ক্রীড়া জগতে সেই সভ্যতার অবদান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "দৃশ্যপট-১-এ যে সভ্যতার ছায়াপাত ঘটেছে সভ্যতার ইতিহাসে তাদের অবদান ছিল লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কলোসিয়াম হলো প্রাচীন রোমের একটি বিশাল নাট্যশালা (অ্যাম্ফিথিয়েটার), যা ৮০ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট টিটাস নির্মাণ করেন এবং যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক বসতে পারত।

  2. খ)

    সিন্ধু সভ্যতার মানুষ সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তুলেছিল। নগরে ছিল সোজা রাস্তা, পোড়া ইটের ঘরবাড়ি এবং নালা-নর্দমার ব্যবস্থা। মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পা ছিল এ সভ্যতার প্রধান নগর। নগরকেন্দ্রিক সুসংগঠিত জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল এর বৈশিষ্ট্য। এ কারণে সিন্ধু সভ্যতাকে নগর সভ্যতা বলা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-২-এ অলিম্পিক ভিলেজ এবং ক্রীড়া নৈপুণ্যের কথা বলা হয়েছে, যা গ্রিক সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ক্রীড়া জগতে গ্রিক সভ্যতার অবদান:
    ১. গ্রিসে অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। প্রতি চার বছর পরপর এই খেলা অনুষ্ঠিত হতো।
    ২. এতে দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া, মুষ্টিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিযোগিতা হতো।
    ৩. বিজয়ীদের জলপাই গাছের ডাল-পাতার মালা দিয়ে পুরস্কৃত করা হতো।
    ৪. বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা অংশ নিত এবং খেলাকে ঘিরে নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার বদলে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে।

    গ্রিকদের সেই ঐতিহ্যই আধুনিক অলিম্পিকের ভিত্তি।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-১-এ নীল নদের তীরের মিশরীয় সভ্যতার ছায়াপাত ঘটেছে। কারণ নদীর বন্যা ও পলি জমে ফসল ভালো হওয়া, মৃৎপাত্র ও আসবাবপত্র তৈরি এবং ছবি আঁকায় দক্ষতা মিশরীয়দের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। সভ্যতার ইতিহাসে তাদের অবদান ছিল লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, উক্তিটি যথার্থ।

    ১. চিত্রলিপি: মিশরীয়রা প্রথমে ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত। এই চিত্রলিপির নাম 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
    ২. বর্ণমালা: প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
    ৩. কাগজ আবিষ্কার: নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে তারা কাগজ (প্যাপিরাস) তৈরি করে তাতে লিখত। রসেটা স্টোনের মাধ্যমে এই লিপি থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা গেছে।

    সুতরাং, লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবদান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন