গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

তন্ময়ের বাবা-মা উভয়েই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তারা নিজেদের নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। ক্লাব পার্টিতে সময় কাটান। তাদের মধ্যে সবসময় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। ছেলের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা-পয়সা দেন। তন্ময় পড়াশোনা ভালো করে না। বখাটে ছেলেদের সাথে সঙ্গ দেয়। একদিন তন্ময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাত্রে বাড়ি ফেরে। হঠাৎ এ অবস্থা দেখে বাবা-মা ভীষণ চিন্তিত হন। তারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার বলেন, "একমাত্র আপনারাই পারেন তন্ময়ের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে।"

  1. ক)

    বিকাশ কী?

    (1)
  2. খ)

    কিশোর অপরাধ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    তন্ময়ের মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তন্ময়ের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিকাশ হলো একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিশুর দৈহিক, মানসিক, আবেগীয় ও সামাজিক ক্ষমতার ক্রমপরিবর্তন ও পরিপূর্ণতা ঘটে।

  2. খ)

    কিশোর অপরাধ বলতে সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংঘটিত আইন ও সমাজবিরোধী কাজকে বোঝায়।

    চুরি, মারামারি, মাদক সেবন, স্কুল পালানো ও ভাঙচুর এ ধরনের অপরাধের উদাহরণ। এসব কাজ সাধারণত পারিবারিক অবহেলা, খারাপ সঙ্গ ও বিনোদনের অভাব থেকে ঘটে।

  3. গ)

    তন্ময়ের মাদকাসক্ত হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

    ১. পারিবারিক অবহেলা: বাবা-মা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, ছেলেকে সময় ও স্নেহ দেন না। ফলে সে মানসিকভাবে একা হয়ে পড়ে।
    ২. অশান্ত পারিবারিক পরিবেশ: বাবা-মায়ের মধ্যে সবসময় ঝগড়া-বিবাদ থাকায় তন্ময় মানসিক চাপে থাকে ও পরিবারে শান্তি পায় না।
    ৩. প্রয়োজনের বেশি টাকা: হাতে অতিরিক্ত টাকা থাকায় সে ভুল পথে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পেয়েছে।
    ৪. খারাপ সঙ্গ: বখাটে ছেলেদের সাথে মেলামেশার ফলে সে নেশায় আকৃষ্ট হয়েছে।
    ৫. পড়াশোনায় অমনোযোগ: পড়াশোনায় ভালো না করায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও দিকনির্দেশনার অভাব তৈরি হয়েছে।

  4. ঘ)

    ডাক্তার বলেছেন, তন্ময়ের অবস্থার পরিবর্তন একমাত্র বাবা-মাই ঘটাতে পারেন। উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে ডাক্তারের এ পরামর্শ যথার্থ, কারণ:

    ১. সমস্যার মূল পরিবার: তন্ময়ের সমস্যার মূল কারণ হলো বাবা-মায়ের অবহেলা ও ঝগড়া। সমস্যার উৎস পরিবারে থাকলে সমাধানও সেখান থেকেই শুরু করতে হবে।
    ২. সময় ও স্নেহ দেওয়া: বাবা-মা ক্লাব-পার্টি কমিয়ে ছেলের সাথে সময় কাটালে ও সহানুভূতির সাথে কথা বললে সে মানসিক নির্ভরতা পাবে।
    ৩. শান্ত পারিবারিক পরিবেশ: নিজেদের ঝগড়া বন্ধ করে সুস্থ ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
    ৪. অর্থের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি: প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা দিতে হবে এবং সে কোথায় যায়, কাদের সাথে মেশে তা খেয়াল রাখতে হবে।
    ৫. চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কাউন্সেলরের সাহায্যে নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে হবে এবং বাবা-মাকে তার পাশে থাকতে হবে।

    সুতরাং, বাবা-মা নিজেদের আচরণ ও দায়িত্বে পরিবর্তন আনলেই তন্ময়কে সুস্থ জীবনে ফেরানো সম্ভব, তাই ডাক্তারের পরামর্শ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন