উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

মিসেস নাঈমা সিরাজগঞ্জের শ্যামনগরে ৯০ লক্ষ টাকা ও ৬০ জন শ্রমিক নিয়ে হস্তশিল্প সামগ্রী উৎপাদন শুরু করেন। উক্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ একক হস্তশিল্প পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এতে গড় উৎপাদন ব্যয় কমে যায়। সম্প্রতি ভোক্তার চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি উৎপাদনের পরিমাণ দৈনিক ২৫০ এককে উন্নীত করেন। কিন্তু এতে তার গড় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।

  1. ক)

    বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ কী?

    (1)
  2. খ)

    "ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উৎপাদন মাত্রার ধরন অনুযায়ী মিসেস নাঈমার প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের শিল্পের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত উৎপাদনের সিদ্ধান্ত কি যৌক্তিক? উদ্দীপকের আলোকে উৎপাদন মাত্রার ধরন বিবেচনায় তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যে প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার অধিক এবং যেখানে ৩০০ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহদায়তন এন্টারপ্রাইজ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজের মালিকানা সাধারণত একজন বা অল্প কয়েকজন ব্যক্তির হাতে থাকে এবং এর সাংগঠনিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ছোট ও সরল প্রকৃতির হয়। এখানে কোনো জটিল প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা বা দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না। মালিক বা ব্যবস্থাপক নিজেই প্রত্যক্ষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদন মাত্রার ধরন বিবেচনায় মিসেস নাঈমার হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানটি 'ক্ষুদ্র শিল্প' (Small Enterprise)-এর অন্তর্ভুক্ত।

    উৎপাদনমুখী বা ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন হলে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস নাঈমা সিরাজগঞ্জের শ্যামনগরে ৯০ লক্ষ টাকা মূলধন এবং ৬০ জন শ্রমিক নিয়ে হস্তশিল্প কারখানা গড়ে তোলেন। তাঁর বিনিয়োগকৃত মূলধন (৯০ লক্ষ টাকা) ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকার সীমার মধ্যে এবং শ্রমিকের সংখ্যা (৬০ জন) ৩১ থেকে ১২০ জনের সীমার মধ্যে রয়েছে। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানটি একটি ক্ষুদ্র শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মিসেস নাঈমার অতিরিক্ত উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি উৎপাদন মাত্রাজনিত ব্যয় বিবেচনায় যৌক্তিক ছিল না।

    কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট আয়তন ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির একটি অনুকূল উৎপাদন ক্ষমতা থাকে। এই ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ালে স্থির ব্যয় বিভাজিত হয়ে গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, যা অভ্যন্তরীণ মাত্রাজনিত মিতব্যয়িতা নামে পরিচিত। কিন্তু বিদ্যমান সক্ষমতা অতিক্রম করে অতিরিক্ত উৎপাদন করতে গেলে অতিরিক্ত সময়ের কাজ, যন্ত্রপাতির ওপর অতিরিক্ত চাপ, কাঁচামালের অপচয় ও অদক্ষতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে গড় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় (মাত্রাজনিত অমিতাচার)।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস নাঈমার ৬০ জন শ্রমিক ও বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দৈনিক ১৫০-২০০ একক হস্তশিল্প পণ্য উৎপাদন করলে কাম্য পর্যায়ে থেকে গড় উৎপাদন ব্যয় কমে আসে। কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে ক্ষমতা বৃদ্ধি বা সম্প্রসারণ না করেই দৈনিক ২৫০ এককে উৎপাদন উন্নীত করায় প্রতিষ্ঠানের গড় ব্যয় বেড়ে গেছে। অর্থাৎ এখানে প্রতিষ্ঠানটি 'মাত্রাজনিত অমিতাচার' বা অ-মিতব্যয়িতার সম্মুখীন হয়েছে।

    অতএব, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত মূলধন, নতুন যন্ত্রপাতি ও জনবল না বাড়িয়ে বিদ্যমান স্বল্প পরিসরে উৎপাদন অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক ছিল না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন