গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
৮ বছর বয়সী নবনীর প্রায়ই সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। কিছুদিন যাবৎ তার দাঁতের মাড়ি ফুলে দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়ছে। তার বড় ভাই নিয়াদ ছোট মাছ, শাক-সবজি খেতে পছন্দ করেনা। সে বাইরের খাবার খেতে চায়। রাতে অল্প আলোতে সে অস্পষ্ট দেখে। ইদানিং তার মাছের কাঁটা বেছে খেতেও অসুবিধা হয়।
- ক)(1)
স্টার্চ কী?
- খ)(2)
ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে কোন ভিটামিন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নবনীর মধ্যে কোন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিয়াদের সমস্যা সমাধানে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় বলে তুমি মনে করো— তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্টার্চ হলো জটিল শর্করা (পলিস্যাকারাইড) জাতীয় খাদ্য উপাদান, যা চাল, গম, আলু ইত্যাদিতে পাওয়া যায় এবং হজম হয়ে দেহে শক্তি জোগায়।
- খ)
ভিটামিন সি ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে। এটি দেহের কোষ ও টিস্যুকে জোড়া লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোলাজেন (Collagen) তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে কেটে বা ছড়ে গেলে ক্ষত দ্রুত সেরে ওঠে। এছাড়া এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
- গ)
নবনীর মধ্যে স্কার্ভি (Scurvy) রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, ভিটামিন সি-এর অভাবে এ রোগ হয়।
১. নবনীর দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া ও গোড়া দিয়ে রক্ত পড়া স্কার্ভির প্রধান লক্ষণ।
২. ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়; এর অভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে তার প্রায়ই সর্দি-কাশি লেগে থাকে।আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, আমড়া ইত্যাদি টক জাতীয় ফল ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। এগুলো নিয়মিত খেলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
- ঘ)
উদ্দীপকে নিয়াদ ছোট মাছ ও শাক-সবজি খেতে চায় না, বাইরের খাবার খেতে চায়। সে রাতে অল্প আলোতে অস্পষ্ট দেখে। এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের লক্ষণ। সমস্যা সমাধানে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়:
১. ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো: ছোট মাছ (যেমন মলা, ঢেলা), কলিজা, ডিমের কুসুম, দুধ, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, পালংশাক ও হলুদ রঙের ফল (আম, পেঁপে) খাদ্যতালিকায় রাখা।
২. খাবারে আগ্রহ তৈরি: শাক-সবজি ও মাছ আকর্ষণীয় ও সুস্বাদুভাবে রান্না করা এবং খাবারের উপকারিতা বুঝিয়ে বলা।
৩. বাইরের খাবার নিরুৎসাহিত করা: অস্বাস্থ্যকর বাইরের খাবারের ক্ষতি বুঝিয়ে তা কমানো এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খেতে অভ্যস্ত করা।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল গ্রহণ করা।সুতরাং, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে নিয়াদের রাতকানা রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও