হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
পার্থ বাবু নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। ঈশ্বরকে জানার জন্যই তার এই প্রচেষ্টা। তাছাড়া কোনো ধার্মিক ব্যক্তির সাথে দেখা হলেই তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। তিনি ঈশ্বরে সমর্পণ করেই সংসারের সকল কাজকর্ম করেন। অন্যদিকে, সুফলের বাবার প্রচুর ধন-সম্পদ থাকার কারণে সে শুধু খায় আর ঘুরে বেড়ায়। যদিও এটার জন্য সুফলকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে গালমন্দ শুনতে হয়।
- ক)(1)
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কোন যুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন?
- খ)(2)
'ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি'- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
সুফলের মধ্যে কর্মতত্ত্বের কোন দিকটি কাজ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'পার্থ বাবুর অনুশীলনকৃত যোগের মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়া সম্ভব'- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
- খ)
'ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি' (গীতা) অর্থ পুণ্য ক্ষয় হলে মানুষ পুনরায় মর্ত্যলোকে জন্মগ্রহণ করে। বৈদিক যুগে সকাম কর্মের সর্বোচ্চ ফল ছিল স্বর্গলাভ। কিন্তু পুণ্যফল ভোগের শেষে স্বর্গ থেকে ফিরে এসে আবার জন্মগ্রহণ করতে হয়। তাই সকাম কর্মের মাধ্যমে মোক্ষলাভ সম্ভব হয় না। মোক্ষ পেতে হলে নিষ্কাম কর্ম, জ্ঞান বা ভক্তির পথ অনুসরণ করতে হয়।
- গ)
সুফলের মধ্যে কর্মতত্ত্বের অকর্ম দিকটি কাজ করছে।
কর্মতত্ত্ব: শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞানযোগ অধ্যায়ে কর্মতত্ত্ব সম্বন্ধে তিনটি কথা আছে: কর্ম, অকর্ম ও বিকর্ম। শাস্ত্রবিহিত যেসব কর্ম করতে হয়, সেগুলো কর্ম। শাস্ত্রে যা নিষিদ্ধ, তা বিকর্ম। আর কোনো কাজ না করাকে বলা হয় অকর্ম। কর্মতত্ত্বকে গহীন অরণ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। গীতায় আরও বলা হয়েছে, দেহধারী জীবের পক্ষে সম্পূর্ণ কর্ম ত্যাগ করা সম্ভব নয়; কর্মই জীবন, জীবনধারণের জন্য কর্ম করতেই হবে। কর্মযোগের নির্দেশ হলো, প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্ম সম্পন্ন করতে হবে এবং কর্মত্যাগেও যেন প্রবৃত্তি না হয়।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: সুফলের বাবার প্রচুর ধন-সম্পদ আছে বলে সে কোনো কাজ করে না, শুধু খায় আর ঘুরে বেড়ায়। শাস্ত্রবিহিত কর্তব্যকর্ম না করে এভাবে কর্মহীন থাকাই অকর্ম। তাই বাবা-মায়ের কাছ থেকে সে গালমন্দ শোনে।
- ঘ)
পার্থ বাবু যোগের মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়ার যে পথে চলেন, তা মূলত জ্ঞানযোগ ও কর্মযোগের সমন্বয়। বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, এ পথে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।
যোগের ধারণা: হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করাই যোগ। গীতায় কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি, এই তিনটিকে মোক্ষলাভের পথ বা যোগ বলা হয়েছে।
১. জ্ঞানযোগের লক্ষণ: পার্থ বাবু নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করেন এবং ঈশ্বরকে জানার জন্য ধার্মিক ব্যক্তির সাথে দেখা হলে নানা প্রশ্ন করেন। গীতায় জ্ঞান অর্জনের জন্য তত্ত্বদর্শী গুরুর কাছে উপস্থিত হয়ে বিনীতভাবে প্রশ্ন করার নির্দেশ আছে। এটি জ্ঞানযোগেরই অনুশীলন। জ্ঞানের উদয়ে পাপ ও অজ্ঞানতা বিনষ্ট হয় এবং সাধক পরম শান্তি লাভ করেন।
২. কর্মযোগের লক্ষণ: তিনি ঈশ্বরে সমর্পণ করেই সংসারের সকল কাজ করেন। কর্মযোগের নির্দেশ হলো কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করে ফলের আশা ত্যাগ করে কর্তব্য কাজ করা। গীতা বলছে, 'কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন'। এরূপ নিষ্কাম কর্মে বন্ধন হয় না, বরং মোক্ষলাভ হয়।
৩. ঈশ্বরের আশ্বাস: গীতায় (৪/১১) ভগবান বলেছেন, যে যেভাবে তাঁকে উপাসনা করে, তিনি তাকে সেভাবেই তুষ্ট করেন, মানুষ যে পথই অনুসরণ করুক, সকল পথে তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারে।
৪. সুফলের সাথে তুলনা: সুফল কর্মহীন অকর্মে থাকে, কিন্তু পার্থ বাবু সংসারধর্ম পালন করেও ঈশ্বরমুখী। এতে বোঝা যায়, কর্মত্যাগ নয়, কর্মকে যোগে পরিণত করাই মুক্তির পথ।সুতরাং, পার্থ বাবুর জ্ঞান ও নিষ্কাম কর্মের নিষ্ঠাপূর্ণ অনুশীলনে ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ ও মোক্ষ পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও