সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

সহপাঠ প্রশ্ন

হিজলতলী গ্রামের মানুষগুলো অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাদের গোলাভরা ধান আছে, কণ্ঠভরা গান আছে আর আছে জীবনের জন্য সংগ্রামী চেতনা। এ গ্রামের যুবক-বৃদ্ধ সকলে ফসলের মাঠে যেমন সুরের মূর্ছনা তোলে, তেমনি আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গাজীপীর কিংবা বদর পীরের সাহায্যও কামনা করে। এ গ্রামের লোকদের অনেকের ঘরেই হয়তো অভাব আছে কিন্তু তাদের দুঃখ-কষ্ট আছে কিনা তা বোঝা দায়। এদের দুঃখের কারণ প্রতারক শ্রেণির মানুষ। এরা সরল ও ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় ভণ্ড ধার্মিকেরা এদের ঠকায়।

  1. ক)

    'কলমা জানো মিঞা?'- মজিদ প্রশ্নটি কাকে করেছে?

    (1)
  2. খ)

    তাই তারা ছোটে, ছোটে"- কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গ্রামবাসীর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানষের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়- বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'এদের দুঃখের কারণ প্রতারক শ্রেণির মানুষ'- উদ্দীপকের এই উক্তির আলোকে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কলমা জানো মিঞা?'- মজিদ প্রশ্নটি দুদু মিয়াকে করেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাবারের সন্ধানে এবং ক্ষুধার তাড়নায় বেঁচে থাকার তাগিদে শস্যহীন অঞ্চলের মানুষ দিগ্বিদিক ছুটে চলে বলে মন্তব্যটি করা হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের শুরুতে মজিদের দেশ গারো পাহাড়ের নিকটবর্তী অঞ্চলের চরম অভাব-অনটনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পাথুরে জমিতে পর্যাপ্ত ফসল ফলে না, মানুষ কেবল বাঁচার মতো সামান্য অন্নের জন্য হাহাকার করে। এই তীব্র ক্ষুধাকে দমন করতে এবং জীবন বাঁচানোর নূন্যতম আশ্রয়ের খোঁজে তারা দেশান্তরী হয়ে দিকবিদিক ছুটে চলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হিজলতলী গ্রামের মানুষের ধর্মীয় সারল্য, অন্ধবিশ্বাস ও ভণ্ডদের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার প্রকৃতির সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ছিল পরিশ্রমী ও কৃষিজীবী। তাদের গোলাভরা ধান ছিল, কিন্তু মনের দিক থেকে তারা ছিল সহজ-সরল ও ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ। ধর্ম সম্পর্কে তাদের সঠিক জ্ঞান না থাকায় এক অজানা ভয় ও অন্ধবিশ্বাস তাদের তাড়া করে ফিরত। মজিদ তাদের এই মানসিক দুর্বলতা ও ধর্মীয় ভীতিকে পুঁজি করেই নিজের শোষণ জারি রেখেছিল।

    উদ্দীপকের হিজলতলী গ্রামের মানুষও পরিশ্রমী, তাদের ঘরে ফসল ও মুখে গান আছে; কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা অন্ধবিশ্বাসে পীরদের সাহায্য খোঁজে। ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে ভণ্ড ধার্মিকরা তাদের ঠকায়। মহব্বতনগরের মানুষও একইভাবে মজিদের মতো এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীর মাজারের ছলনায় পড়ে প্রতারিত হয়েছে। ধর্মীয় অন্ধতা ও অজ্ঞতার দিক থেকে উভয় গ্রামের মানুষের স্বভাব অবিকল এক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'এদের দুঃখের কারণ প্রতারক শ্রেণির মানুষ'—উদ্দীপকের এই উক্তিটি 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের সামাজিক ও মানসিক দুর্দশার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে সত্য।

    মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ছিল কঠোর পরিশ্রমী। জমি চাষ করে তারা ফসল ফলাত এবং সরল জীবনযাপন করত। কিন্তু তাদের স্বাভাবিক ও স্বাধীন জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ, যার মূল কারণ ছিল মজিদ নামক এক প্রতারক ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী। মজিদ একটি প্রাচীন অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে ঘোষণা করে এবং গ্রামবাসীকে গোনাহগার বলে ভয় দেখায়।

    মজিদ গ্রামের মানুষকে ক্রমাগত ধর্মীয় পাপের ভয়, মৃত্যুর ভয় ও দোজখের ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলে। মানুষের স্বাভাবিক হাসি-আনন্দ, সংগীত ও ভালোবাসাকে সে পাপ হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আক্কাসের মতো সচেতন যুবকের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মহৎ স্বপ্ন সে ধূলিসাৎ করে দেয়। এমনকি সন্তানহীন রহিমা কিংবা স্বাধীনচেতা জমিলাকেও তার মানসিক ও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়। ধর্মকে বর্ম বানিয়ে মজিদ ও মাতব্বর খালেক ব্যাপারী পুরো গ্রামের কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করে সাধারণ মানুষকে শোষণ করতে থাকে।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের উক্তির মতো মহব্বতনগরের মানুষের মূল দুর্দশার কারণ প্রাকৃতিক অভাব ছিল না, বরং তাদের সর্বনাশের মূল কারণ ছিল মজিদের মতো সুবিধাবাদী, প্রতারক ও স্বার্থান্ধ ধর্মব্যবসায়ী মানুষ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন