বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

5.

রোহিঙ্গা সমস্যা ও সমাধান।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

রোহিঙ্গা সমস্যা ও সমাধান

ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ মানবিক বিপর্যয় ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট হলো রোহিঙ্গা সমস্যা। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দীর্ঘদিনের নাগরিক ও জাতিগত জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন ও নাগরিক অধিকারবঞ্চিত করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার পটভূমি:
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন (সাবেক আরাকান) রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। তবে ১৯৮২ সালের মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে তাদেরকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্মম দমন-পীড়ন, গণহত্যা এবং নির্যাতনের মুখে প্রায় দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।

বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব:
১. অর্থনৈতিক চাপ: বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজেটে বিপুল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় এ চাপ আরও বাড়ছে।
২. পরিবেশগত বিপর্যয়: শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণের জন্য কক্সবাজার ও টেকনাফ অঞ্চলের হাজার হাজার একর বনভূমি ও বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে, যার ফলে পাহাড়ধস ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
৩. সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা: ক্যাম্পগুলোতে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার ও অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত বাড়ছে, যা সমগ্র অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
৪. স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংকট: কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শ্রমের মূল্য কমে গেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সমাধানের টেকসই উপায়:
১. নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন: রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো পূর্ণ নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন।
২. আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ: জাতিসংঘ, আসিয়ান (ASEAN), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মিয়ানমারের প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশগুলোকে মিয়ানমার জান্তার ওপর জোরালো কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
৩. আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার: মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সমর্থন জানানো।
৪. দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি: বাংলাদেশ সরকারকে পরাশক্তি রাষ্ট্রসমূহ ও বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর সাথে অব্যাহত ও কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

উপসংহার:
রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত মানবিক দায়িত্ব। মিয়ানমারের আন্তরিক সদিচ্ছা এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একান্ত আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন