বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বিজ্ঞান প্রশ্ন
বাস দুর্ঘটনায় শাহজান মাথায় আঘাত পায় এবং তার স্ত্রী শাহনাজের পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। ডাক্তারের নিকট গেলে ডাক্তার ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে দুইজনকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
- ক)(1)
ইসিজি কাকে বলে?
- খ)(2)
পাকস্থলীতে এন্ডোসকপি করা হয় কেন?
- গ)(3)
শাহনাজের পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ডাক্তার দুইজনকে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি) হলো হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে হৃৎপিণ্ডের অবস্থা নির্ণয়ের পরীক্ষা।
- খ)
পাকস্থলীতে এন্ডোস্কোপি করা হয়, যাতে এর ভেতরের অবস্থা সরাসরি দেখা যায়।
মুখ দিয়ে ক্যামেরা ও আলোযুক্ত সরু নল ঢুকিয়ে আলসার, প্রদাহ, রক্তক্ষরণ বা টিউমার আছে কি না তা শনাক্ত করা যায়। প্রয়োজনে একই সময়ে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ বা চিকিৎসাও করা যায়।
- গ)
শাহনাজের পা ভেঙে যাওয়ায় হাড় পরীক্ষার জন্য এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
কার্যপ্রণালি:
১. এক্স-রে যন্ত্র থেকে উচ্চ শক্তির এক্স-রশ্মি আহত পায়ের ওপর ফেলা হয়।
২. হাড় এক্স-রশ্মি বেশি শোষণ করে, কিন্তু মাংসপেশি ও কোমল টিস্যু কম শোষণ করে। ফলে রশ্মি ভেদ করে অপর পাশের ফটোগ্রাফিক ফিল্ম বা ডিটেক্টরে পৌঁছায়।
৩. ফিল্মে হাড়ের অংশ সাদা এবং কোমল অংশ কালচে ছায়া হিসেবে ফুটে ওঠে। হাড়ের ভাঙা জায়গা কালো রেখা বা ফাটল হিসেবে দেখা যায়। - ঘ)
ডাক্তার শাহজান ও শাহনাজের জন্য ভিন্ন পরীক্ষা বেছেছেন, যা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।
১. শাহনাজের পায়ের হাড় ভেঙেছে। হাড় এক্স-রশ্মি বেশি শোষণ করে, তাই এক্স-রে পরীক্ষায় ভাঙার স্থান ও ধরন পরিষ্কার দেখা যায়।
২. শাহজান মাথায় আঘাত পেয়েছেন। মস্তিষ্ক কোমল টিস্যু, যার ভেতরের রক্তক্ষরণ বা ক্ষত সাধারণ এক্স-রেতে স্পষ্ট ধরা পড়ে না। এজন্য সিটি স্ক্যান বা এমআরআই-এর মতো উন্নত পরীক্ষা দরকার, যা মস্তিষ্কের স্তরভিত্তিক বিস্তারিত ছবি দেয়।
৩. রোগের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরীক্ষা করলে নির্ভুল রোগ নির্ণয় হয়, অপ্রয়োজনীয় রশ্মির ঝুঁকি কমে এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।সুতরাং, ভিন্ন আঘাতের জন্য ভিন্ন পরীক্ষা বেছে নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও