ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন বাজেটে অনেক প্রকল্প থাকে। ইদানিং পত্র-পত্রিকা মারফত জানা যায় যে, বছর শেষে অনেক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হতাশাব্যঞ্জক থাকে। এমনকি অনেক মন্ত্রণালয়ে উন্নয়নের জন্য বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা বছর শেষে উল্লেখযোগ্য অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতির পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করা হয়। বলা হয় যে, নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণেই প্রকল্পের কাজ ও বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়।

  1. ক)

    নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বুঝ?

    (1)
  2. খ)

    আদর্শ নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি উপাদান উল্লেখ করো।

    (2)
  3. গ)

    পরিকল্পিত কাজের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয় তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাজেট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করলে যে সুবিধা পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পাদিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা, বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি আদর্শ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কয়েকটি অপরিহার্য উপাদান নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. আদর্শ মান নির্ধারণ: কাজের ফলাফল মূল্যায়নের জন্য পূর্বনির্ধারিত ও পরিমাপযোগ্য ভিত্তি থাকা।
    ২. সহজবোধ্যতা: নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া বা কৌশল এমন হওয়া যা সংশ্লিষ্ট কর্মী বা ব্যবস্থাপক সহজেই বুঝতে পারেন।
    ৩. নমনীয়তা: পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মান ও পদ্ধতির সামঞ্জস্য বিধানের সুযোগ থাকা।
    ৪. দ্রুত বিচ্যুতি শনাক্তকরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা: কাজের বিচ্যুতি সময়মতো শনাক্ত করে তা সংশোধনের সরাসরি নির্দেশনা প্রদান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পিত কাজের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার 'কার্যফল পরিমাপ' এবং 'আদর্শ মানের সাথে কার্যফলের তুলনা' পদক্ষেপের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

    নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপগুলো হলো—
    ১. আদর্শ মান নির্ধারণ
    ২. প্রকৃত কার্যফল পরিমাপ
    ৩. আদর্শ মানের সাথে প্রকৃত কার্যের তুলনা
    ৪. বিচ্যুতির কারণ নির্ণয় ও বিশ্লেষণ
    ৫. সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ

    উদ্দীপকে উল্লেখিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময় শেষে কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা জানার জন্য প্রথমে নির্ধারিত সময়ের প্রকৃত কার্যফল পরিমাপ করা হয়। এরপর পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বা আদর্শ মানের সাথে তা তুলনা করে দেখা হয় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি না। যদি কোনো পার্থক্য বা পিছিয়ে থাকা লক্ষ্য করা যায়, তবে বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়। এভাবে পরিকল্পিত কাজের অগ্রগতি যাচাই সম্পন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাজেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হলে প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে আর্থিক ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাসহ নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়।

    বাজেট হলো পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশ। যখন বাজেটকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল বা মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায় এবং অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

    বাজেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
    ১. সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও জবাবদিহিতা: সংখ্যাত্মক মানদণ্ড থাকায় প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুস্পষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত থাকেন এবং ব্যয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
    ২. অপচয় ও অর্থ অব্যবহার রোধ: কোন খাতে কত অর্থ এবং সময়ে ব্যয় হবে তা নির্দিষ্ট থাকায় অতিরিক্ত ব্যয় বা অর্থ অলস পড়ে থাকার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
    ৩. সহজে বিচ্যুতি শনাক্তকরণ: বাজেটের আর্থিক ও বস্তুগত লক্ষ্যের সাথে প্রকৃত ব্যয়ের নিয়মিত তুলনা করে দ্রুত বিচ্যুতি চিহ্নিত করা যায়।
    ৪. কার্যকর সমন্বয়সাধন: বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে বাজেট একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে, ফলে সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

    সুতরাং, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে এবং বরাদ্দের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কার্যকর একটি হাতিয়ার।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন