পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনব আঃ সামাদ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে নিম্নপদে আছেন ।ইতিমধ্যে তিনি অঢেল টাকা পয়সা ও সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আত্মীয়-স্বজন তার সম্পর্কে নানা ধরনের খারাপ মন্তব্য করে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী তার বন্ধু রিপন সম্প্রতি শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ডাক্তার রিপন কে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, সে জটিল রোগে আক্রান্ত- যার কোনো চিকিৎসা নেই।
- ক)(1)
AIDS-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
ছয়দফা সম্পর্কে লেখো।
- গ)(3)
রিপন কোন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রথমে বর্ণিত নাগরিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য তুমি কী কী সুপারিশ করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছয়দফা হলো ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ঐতিহাসিক দাবি বা মুক্তির সনদ। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান এই দাবি উত্থাপন করেন। এটি মূলত পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও বৈষম্যের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পেশ করা হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা, মুদ্রা, কর ধার্য, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং নিজস্ব মিলিশিয়া বা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাকে বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রিপন 'এইডস' (AIDS) নামক জটিল রোগে আক্রান্ত। এইডস হলো এক ধরনের মরণব্যাধি, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে এই রোগের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী রিপন শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে দেশে ফিরেছেন এবং ডাক্তারের পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তিনি একটি জটিল ও নিরাময়হীন রোগে আক্রান্ত। এইডসের এখন পর্যন্ত কোনো সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য প্রতিষেধক বা চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। মূলত অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, রক্ত পরিসঞ্চালন কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির সূচ/সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। ফলে লক্ষণ ও পরিস্থিতির বিচারে স্পষ্ট হয় যে রিপন এইডস রোগে আক্রান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথমে বর্ণিত নাগরিক সমস্যাটি হলো 'দুর্নীতি', যা জনাব আঃ সামাদের নিম্নপদে চাকরি করেও অঢেল সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। এ সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে:
১. আইনের কঠোর প্রয়োগ: দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): দুদককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করা।
৩. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব: নিয়মিত বিরতিতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ ও তা নিরীক্ষা করা।
৪. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা জোরদার করা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
৫. উপযুক্ত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা প্রদান করা, যাতে অর্থনৈতিক চাপে দুর্নীতিতে না জড়ায়।
৬. সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা: পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সাহায্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বর্জন করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও