বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক জহির রায়হান বিরচিত 'একুশের গল্প' রচনায় গল্প কথক, তপু ও রাহাত ছিল তিন বন্ধু। তারুণ্যের উদ্দামতা ও এক স্বপ্নিল আশা নিয়ে ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাদের ছাত্রজীবনের দিনগুলো। কিন্তু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তাদের ছন্দোময় জীবনে অকস্মাৎ ছেদ পড়ে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে তপু ও তার বন্ধু-বান্ধব যোগ দেয় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে। মিছিল এগিয়ে চললো মেডিকেল কলেজের গেট পেরিয়ে কার্জন হলের দিকে। মিছিলটা হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছাতেই মিলিটারিরা অতর্কিতে গুলি চালায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্ধুরা দেখতে পেল হাতে, প্ল্যাকার্ডসহ গুলিবিদ্ধ তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
- ক)(1)
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“বেশি জোরে চালাবেন না, কারণ বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়”। —উক্তিটিতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার কোন ঘটনার মিল রয়েছে? আলোচনা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখকের ব্যক্তি জীবনের ঘটনাগুলোর প্রতিচ্ছবি নেই” মন্তব্যটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ২০১২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটিতে লেখক জেলখানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর স্টেশনের দিকে যাওয়ার পথে ঘোড়ার গাড়ির চালককে গাড়ি সাবধানে ও ধীরে চালাতে অনুরোধ করেছিলেন।
টানা অনশন ধর্মঘটের কারণে লেখক শেখ মুজিবুর রহমান শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগ ও অনশনের পর যখন তিনি অবশেষে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তিনি ঘোড়ার গাড়ির চালককে কৌতুক ও সতর্কতার সুরে বলেন যে, বহু কষ্টে অনশন ও কারাবাসের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে তিনি জীবনের এই পর্যায়ে এসেছেন, তাই সামান্য অসাবধানতায় যেন পথদুর্ঘটনায় প্রাণ না হারান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণের ঘটনার মিল রয়েছে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বর্ণিত হয়েছে, ফরিদপুর জেলে অনশনরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ২১শে ফেব্রুয়ারির ঢাকার করুণ ও বীরত্বপূর্ণ ঘটনার খবর পান। সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায় বাংলা ভাষার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে বরকত, সালাম, রফিকসহ অনেকে শহীদ হন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, তপু ও তার বন্ধুরা ভাষা আন্দোলনের মিছিলে শামিল হয়ে মেডিকেল কলেজ পার হয়ে কার্জন হলের দিকে এগোয় এবং হাইকোর্টের মোড়ে মিলিটারির গুলিতে তপু শহীদ হয়। রাজপথে মিছিলে ছাত্রদের আত্মাহুতির এই ঐতিহাসিক দিকটির সাথেই 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার লেখকের ব্যক্তি জীবনের ঘটনাগুলোর প্রতিচ্ছবি নেই”—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
'বায়ান্নর দিনগুলো' মূলত লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বন্দিজীবন, অনশন ধর্মঘট এবং আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণমূলক রচনা। এতে স্থান পেয়েছে কীভাবে লেখক ও তাঁর সহকর্মী মহিউদ্দিন ফরিদপুর জেলে অনশন শুরু করেছিলেন, তাঁদের ওপর জেল কর্তৃপক্ষের আচরণ, অনশন ভাঙার মুহূর্ত, বঙ্গবন্ধুর অসুস্থতা, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো এবং মুক্তি পেয়ে পিতা ও পরিবারের সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার মর্মস্পর্শী ব্যক্তিগত বিবরণ। ভাষা আন্দোলন সেখানে পরোক্ষভাবে উপস্থিত হলেও রচনার মূল অংশ জুড়ে রয়েছে লেখকের নিজস্ব কারাজীবন ও ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি।
পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে কেবল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাজপথের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম, ছাত্রদের মিছিল এবং মিছিলে পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তপু নামের এক তরুণের আত্মদানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এখানে জহির রায়হানের গল্পের প্রেক্ষাপটে ভাষা আন্দোলনের রাজপথের বাস্তবতাকে চিত্রিত করা হলেও 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার অন্যতম প্রধান দিক—বঙ্গবন্ধুর কারাবন্দী জীবন, অনশনকালীন শারীরিক যন্ত্রণা এবং মুক্তির দিনগুলোর কোনো প্রতিচ্ছবি স্থান পায়নি।
সুতরাং, উদ্দীপকটিতে ভাষা আন্দোলনের রাজপথের আত্মত্যাগের সাধারণ চিত্রটি উঠে এলেও বঙ্গবন্ধুর জেলজীবনের ব্যক্তিগত সংগ্রামের কোনো প্রতিফলন নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও