যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: একটি ঘরকে ছাদ, দরজা, জানালা এভাবে ভাগ করা হলো। দৃশ্যকল্প-২: একটি আমকে রং, গন্ধ ও স্বাদে ভাগ করা হলো।

  1. ক)

    অতিব্যাপক বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বিকোটিক বিভাগ কেন সহজ-সরল প্রক্রিয়া? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটিতে সংঘটিত অনুপপত্তি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ বিভাজন প্রক্রিয়াটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভাজ্য জাতির ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বিভক্ত উপজাতিগুলোর ব্যক্ত্যর্থের সমষ্টি বেশি হলে যে অনুপপত্তি ঘটে, তাকে অতিব্যাপক বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিকোটিক বিভাগ হলো একটি জাতিকে তার একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ উপজাতিতে বিভক্ত করার একটি বুদ্ধিমূলক প্রক্রিয়া (যেমন: মানুষ ও অ-মানুষ)।

    এটি সহজ-সরল প্রক্রিয়া কারণ এতে কোনো বাস্তব বা বস্তুগত পর্যবেক্ষণের জটিলতার প্রয়োজন হয় না; কেবল বিরুদ্ধ নিয়মের (Law of Contradiction) ওপর ভিত্তি করে ইতিবাচক ও নেতিবাচক পদে বিভক্ত করা যায়। ফলে বিভাজনে কোনো উপজাতি বাদ পড়ার বা অতিব্যাপক হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটিতে 'অঙ্গগত বিভাগজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Physical Division) সংঘটিত হয়েছে।

    যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুসারে, যৌক্তিক বিভাগ সর্বদা কোনো জাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে নয়। কোনো একটি সামগ্রিক বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গ বা অংশে বিভক্ত করা যৌক্তিক বিভাগ নয়, একে বলা হয় অঙ্গগত বিভাগ (Physical Division)।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ একটি 'ঘর'কে ছাদ, দরজা, জানালা ইত্যাদি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এখানে 'ঘর' কোনো শ্রেণি বা জাতিবাচক পদ নয়, বরং একটি মূর্ত বা বিশেষ সামগ্রিক বস্তু এবং ছাদ, দরজা বা জানালা হলো সেই বস্তুর বিভিন্ন ভৌতিক বা শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। একটি একক বস্তুকে তার বিভিন্ন অংশে ভাগ করায় যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে এবং অঙ্গগত বিভাগজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো একটি 'গুণগত বিভাগজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Metaphysical Division)।

    যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী, যৌক্তিক বিভাগে একটি জাতিকে কেবল তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে বিভক্ত করা যায়। কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন গুণকে আলাদা করে বিবেচনা করা যৌক্তিক বিভাগের আওতাভুক্ত নয়; একে গুণগত বা কাল্পনিক বিভাগ বলা হয়।

    দৃশ্যকল্প-২-এ একটি 'আম'কে তার রং, গন্ধ ও স্বাদে ভাগ করা হয়েছে। আম কোনো জাতিবাচক শ্রেণি হিসেবে এখানে বিভক্ত হয়নি, বরং আমের অন্তর্নিহিত বিভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো বস্তুকে তার গুণে বিভক্ত করলে তা কোনো যৌক্তিক বিভাগ গঠন করে না। কারণ যৌক্তিক বিভাগে উপজাতিগুলোর ওপর মূল জাতির নাম আরোপ করা যায় (যেমন: মানুষ একটি জীব), কিন্তু গুণগত বিভাগে তা সম্ভব নয় (যেমন: রং কখনো আম হতে পারে না)।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-২-এ যৌক্তিক বিভাগের মূল নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় এটি ভ্রান্ত বিভাগ এবং যুক্তিবিদ্যার ভাষায় একে 'গুণগত বিভাগ' বা গুণগত বিভাগজনিত অনুপপত্তি বলা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন