ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : শরীফ সাহেব দীর্ঘ দিন বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে আসেন। তার নিজ গ্রামে এসে দেখেন গ্রামের উত্তর পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিবাদ এখনো চলমান। তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে উক্ত বিবাদ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সকলের সহযোগিতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা সম্বলিত একটি নীতিমালা তৈরি করেন যা সকল গ্রামবাসী মেনে নিতে বাধ্য হয়।
দৃশ্যকল্প-২ : হাবীব সাহেব এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সম্মিলিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেন, আজ থেকে এলাকার ধনী-দরিদ্র সকলে সমান অধিকার ভোগ করবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি চলবে না। অধীন্তদের সাথে সৎ ব্যবহার করতে হবে। আজ যারা উপস্থিত আছেন, তারা অনুপস্থিতদের কাছে আমার বক্তব্য পৌঁছে দিবেন।

  1. ক)

    মুহাজির কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “মানুষ ফিকাহ শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব শরীফ সাহেবের কর্মকাণ্ড মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কোন কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।—ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    হাবীব সাহেবের ভাষণ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মনীষীর ভাষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তা চিহ্নিত করে উক্ত ভাষণের গুরুত্ব বর্ণনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহ ও রাসুলের জন্য মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী সাহাবিদের মুহাজির বলা হয়।

  2. খ)

    ইমাম আবু হানিফা (র) ফিকহ শাস্ত্রের একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন। তিনি কুরআন ও হাদিস থেকে বহু মাসআলা বের করেন এবং তাঁর সংকলিত নিয়ম-পদ্ধতি পরবর্তী ফকিহদের জন্য ভিত্তি হয়। তাঁর গভীর জ্ঞানের কারণে ফিকহের জটিল বিষয়ে মানুষ তাঁর ওপর নির্ভর করত। তাই বলা হয়েছে, মানুষ ফিকহে ইমাম আবু হানিফার মুখাপেক্ষী।

  3. গ)

    শরীফ সাহেবের কর্মকাণ্ড মহানবি (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    শরীফ সাহেব দুই পাড়ার বিবাদ মেটাতে গণ্যমান্যদের নিয়ে কমিটি করে একটি নীতিমালা তৈরি করেন, যা সবাই মানতে বাধ্য। একইভাবে রাসুল (স) মদিনায় মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য গোত্রের মধ্যে বিবাদ ও যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ৪৭ ধারার মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন। সবাই তা মেনে চলতে বাধ্য ছিল। সুতরাং, দুটি কাজের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি অভিন্ন।

  4. ঘ)

    হাবীব সাহেবের ভাষণ রাসুল (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, সব মানুষ সমান, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতে। ধর্মে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন, অধীনস্থদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে বলেছেন এবং উপস্থিতদের অনুপস্থিতদের কাছে বাণী পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাবীব সাহেবের ভাষণেও একই বিষয় রয়েছে।

    ভাষণের গুরুত্ব—

    ১. মানবাধিকার ও সাম্য: এটি জাতি, বর্ণ ও ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ মুছে মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়।
    ২. শোষণ ও জুলুমের অবসান: অধীনস্থ ও দুর্বলের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে।
    ৩. চিরন্তন নির্দেশনা: কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ মুসলিম উম্মাহর জন্য স্থায়ী পথনির্দেশ।

    সুতরাং, এই ভাষণ মানবসমাজে শান্তি ও ন্যায়ের চিরস্থায়ী সনদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন