হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

আরতি দেবী খুবই ধর্মপরায়ণা। তিনি ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের উপাসনা করেন। তার গভীর বিশ্বাস, ভক্তিসহকারে ভগবানকে ডাকলে তিনি ভক্তকে দেখা দেন এবং তার মঙ্গল করেন। অন্যদিকে, বিমল বাবু ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে চান। তিনি অনুভব করেন, বিশ্বের সকল প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা বিরাজমান। এই চেতনাই হচ্ছে জীবাত্মা বা পরমাত্মার অংশ।

  1. ক)

    রেচক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যোগের সর্বোচ্চ স্তরটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আরতি দেবী কোন সাধন পথ অবলম্বন করেন? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমল বাবুর সাধন পথের মাধ্যমে কী মোক্ষলাভ সম্ভব? সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রাণায়ামের তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বাসত্যাগকে রেচক বলে।

  2. খ)

    অষ্টাঙ্গ যোগের আটটি ধাপ হলো যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হলো সমাধি। সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ। ধ্যানের অত্যুচ্চ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য ও অহংশূন্য অবস্থা প্রাপ্ত হন এবং পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার মিলন ঘটে। এভাবে সাধক প্রকৃত যোগ লাভ করেন।

  3. গ)

    আরতি দেবী ভক্তিযোগ নামক সাধন পথ অবলম্বন করেন।

    ভক্তিযোগের ধারণা: ভক্তিকে অবলম্বন করে যে ঈশ্বর আরাধনা, তাকে ভক্তিযোগ বলে। ভগবানে ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাই ভক্তি। শাণ্ডিল্য সূত্রে বলা হয়েছে, ভগবানের পদে একান্ত রতিই ভক্তি। ভক্তিযোগে ভক্ত ঈশ্বরের অশেষ করুণা ও সর্বশক্তিমত্তায় গভীর বিশ্বাস রাখেন এবং ভগবানকে একমাত্র আশ্রয় মনে করেন। শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ বা শরণাগতিই এ পথের সার কথা। ভগবান সাকার ও সগুণরূপে আরাধিত হন বলে এ পথ তুলনামূলক সহজ। গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের নাম ভক্তিযোগ।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: আরতি দেবী ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের উপাসনা করেন। তাঁর গভীর বিশ্বাস, ভক্তিসহকারে ডাকলে ভগবান ভক্তকে দেখা দেন ও তার মঙ্গল করেন। এ বিশ্বাস ভক্তিযোগের মূল ভিত্তির সাথে মিলে যায়, কারণ ভক্তিযোগে ঈশ্বরের করুণা ও ভক্তবাঞ্ছা-কল্পতরু রূপের প্রতি গভীর আস্থা থাকে।

    অতএব, আরতি দেবী পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ভক্তিযোগের পথেই সাধনা করেন।

  4. ঘ)

    বিমল বাবু জ্ঞানযোগের পথ অবলম্বন করেন। আমার মতে, এ সাধন পথের মাধ্যমে মোক্ষলাভ সম্ভব।

    জ্ঞানযোগের ধারণা: জ্ঞানের অনুশীলন দ্বারা পরম সত্তায় উপনীত হওয়ার পদ্ধতিই জ্ঞানযোগ। শাস্ত্রে আত্মতত্ত্ব ও পরমার্থতত্ত্ব জানাকে জ্ঞান বলা হয়েছে। জ্ঞানী উপলব্ধি করেন যে তাঁর নিজের মধ্যে এবং সকল প্রাণীর মধ্যে একই চেতনা বিরাজমান, যা জীবাত্মা এবং এই জীবাত্মাই পরমাত্মার অংশ। বিমল বাবুর অনুভূতি এ ধারণার সাথেই মেলে।

    ১. মোক্ষলাভের স্বীকৃত পথ: পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, কর্ম, জ্ঞান ও ভক্তি, এই তিন পথের যেকোনো একটি নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন করলে সাধক মোক্ষলাভ করতে পারেন। গীতায় ভগবান বলেছেন, যে যেভাবে তাঁকে উপাসনা করে, তিনি তাকে সেভাবেই তুষ্ট করেন, সব পথেই তাঁকে পাওয়া যায়।
    ২. মায়ার আবরণ কাটে: সাধারণ মানুষ ঈশ্বরের মায়াশক্তিতে আচ্ছন্ন থাকে। জ্ঞানযোগে ঈশ্বরের অনুগ্রহে এ মায়া কেটে গেলে সাধক আত্মতত্ত্বজ্ঞ ও ব্রহ্মজ্ঞ হন।
    ৩. চরিত্রের শুদ্ধি: জ্ঞানীর সর্বত্র সমবুদ্ধি জন্মে, বাসনা শুদ্ধ হয়, অহংকার ও হিংসা থাকে না। জ্ঞানের উদয়ে পাপ ও অজ্ঞানতা বিনষ্ট হয়।
    ৪. কর্মবন্ধন থাকে না: জ্ঞানী কর্মতত্ত্ব উপলব্ধি করেন, তাই তাঁর কর্ম নিষ্কাম হয় এবং কর্মের বন্ধন তাঁকে বাঁধে না। এতে তিনি পরম শান্তি লাভ করেন।

    অবশ্য এ পথে গুরুর নিকট উপস্থিত হয়ে সেবা ও বিনীত প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হয় এবং শ্রদ্ধা ও ইন্দ্রিয়সংযম প্রয়োজন।

    সুতরাং, জ্ঞানযোগের নিষ্ঠাপূর্ণ অনুশীলনে বিমল বাবুর পক্ষে জীবাত্মার পরমাত্মায় লীন হয়ে মোক্ষলাভ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন