বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হরিপুর বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে তিনজন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে জসিম মাস্টারকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোটর সাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পালাচ্ছিল। এমন সময় ঘটনাস্থলে এসে পড়ে সাহসী তরুণ সোহরাব। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে এবং একজনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। ফিরে এসে দেখে মাস্টার মশায় তখনো মাটিতে লুটিয়ে। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছে না পুলিশি ঝামেলার ভয়ে। সোহরাব কোনো কিছু না ভেবেই মাস্টার মশায়কে নিয়ে যায় মেডিকেলে।
- ক)(1)
কোন বয়স দুঃসহ?
- খ)(2)
"এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে"-এ অংশে কবি কোন দিকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সোহরাবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা কর।
- ঘ)(4)
সমাজের দুরবস্থা লাঘবে উদ্দীপকের সোহরাব কতটুকু সহায়ক বলে তুমি মনে কর। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়স দুঃসহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে" চরণটির মাধ্যমে আঠারো বছর বয়সের নেতিবাচক প্রভাব, ব্যর্থতা ও হতাশার আশঙ্কার দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
বয়ঃসন্ধিকালের এই বয়সটি যেমন অমিত সম্ভাবনাময়, তেমনই সঠিক পথের দিশা না পেলে তা হতাশা, দুঃখবোধ এবং অশুভ শক্তির আঘাতে বিপর্যস্ত হতে পারে। ভুল পদক্ষেপ বা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এই তারুণ্যে নেমে আসতে পারে দীর্ঘশ্বাস ও অনিশ্চয়তা—কবি সেই বিপদের দিকটিকেই এই চরণে তুলে ধরেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সোহরাবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তারুণ্যের নির্ভীকতা, পরোপকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বৈশিষ্ট্যের চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তরুণদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা নির্ভীক, অকুতোভয় এবং বাধার মুখে কখনো মাথা নোয়ায় না। তারা অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আত্মত্যাগে প্রস্তুত থাকে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে দ্বিধাবোধ করে না।
উদ্দীপকের সোহরাব হরিপুর বাজারে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার শিক্ষক জসিম মাস্টারকে বাঁচাতে একা এগিয়ে যায়। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলে এবং পুলিশি ঝামেলার ভয় উপেক্ষা করে আহত মাস্টার মশাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোহরাবের এই নির্ভীক মানসিকতা, দায়িত্ববোধ ও পরোপকারী মনোভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার প্রতিবাদী ও সাহসী তারুণ্যেরই প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের দুরবস্থা লাঘবে উদ্দীপকের সোহরাবের মতো সাহসী ও নিঃস্বার্থ তরুণ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে—'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি শতভাগ সত্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য দেখিয়েছেন কীভাবে তরুণদের প্রাণশক্তি, ত্যাগ ও প্রতিবাদী চেতনা সব স্থবিরতা, অন্যায় ও অনাচারকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। সমাজ যখন শঙ্কা, ভয় এবং নিষ্ক্রিয়তায় আচ্ছন্ন থাকে, তখন তরুণেরাই সমাজকে নতুন পথ দেখায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজের অধিকাংশ মানুষ পুলিশি ঝামেলার ভয়ে একজন মুমূর্ষু শিক্ষকের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। কিন্তু তরুণ সোহরাব কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ বা ভয়ের পরোয়া না করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে এবং দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিয়ে মাস্টার মশাইকে উদ্ধার করেছে। সোহরাবের মতো নিঃস্বার্থ ও প্রতিবাদী মনোভাবসম্পন্ন তরুণরাই সমাজের সন্ত্রাস, অন্যায় ও সামাজিক স্থবিরতা দূর করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, কবি যেমন আঠারো বছর বয়সের তেজ ও কল্যাণমুখী চেতনাকে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে কামনা করেছেন, তেমনি বাস্তব জীবনেও সোহরাবের মতো সাহসী তরুণের সক্রিয় ভূমিকাই সমাজকে যাবতীয় দুরবস্থা ও অন্যায় থেকে রক্ষা করতে কার্যকর অবদান রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও