ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব আদিল সাহেব আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দৈনিক পাঁচবার একটি ইবাদত পালন করেন। এতে তার শরীর ও মন ভালো থাকে। পক্ষান্তরে মিসেস আদিল বছরের একটি নির্দিষ্ট মাসে পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে দিনে সকল প্রকার খানাপিনা থেকে বিরত থাকেন। এর দ্বারা তিনি খোদাভীতি অর্জন করতে চান।
- ক)(1)
ইবাদত কী?
- খ)(2)
ইলম অর্জন করা ফরজ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আদিল সাহেব কোন ইবাদত পালন করেন? সে ইবাদতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মিসেস আদিলের ইবাদত চিহ্নিত করে এর সামাজিক শিক্ষা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য যেসব কাজ করা হয়, তাকে ইবাদত বলে।
- খ)
ইলম অর্থ জ্ঞান। ইলম ছাড়া আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানা যায় না এবং সঠিকভাবে ইবাদত করা সম্ভব হয় না। তাই রাসুল (স) বলেছেন, “ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” ইলমের মাধ্যমে মানুষ ভালো-মন্দ চিনতে পারে এবং সঠিক পথে চলতে পারে। এ কারণেই ইলম অর্জন করা ফরজ।
- গ)
আদিল সাহেব দৈনিক পাঁচবার যে ইবাদত করেন, তা সালাত।
সালাতের গুরুত্ব—
১. সালাত ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং ঈমানের পরেই এর স্থান।
২. এটি মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
৩. নিয়মিত সালাত আদায়ে শরীর ও মন সুস্থ থাকে। উদ্দীপকে আদিল সাহেবও তা অনুভব করেন।
৪. কিয়ামতের দিন সবার আগে সালাতের হিসাব নেওয়া হবে।সুতরাং, সালাত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ লাভের প্রধান মাধ্যম।
- ঘ)
মিসেস আদিল বছরের নির্দিষ্ট মাসে রাতে খেয়ে দিনে পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং খোদাভীতি অর্জন করতে চান। তাঁর ইবাদত সাওম (রোজা)।
সাওমের সামাজিক শিক্ষা—
১. সহমর্মিতা: ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে ধনীরা গরিবের দুঃখ বুঝতে পারে এবং সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।
২. সাম্য ও ঐক্য: একই সময়ে ধনী-গরিব সবাই সাওম রাখে ও ইফতার করে, ফলে ভেদাভেদ কমে ও ঐক্য গড়ে ওঠে।
৩. সংযম ও শৃঙ্খলা: সাওম মিথ্যা, গিবত ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে।
৪. পারিবারিক বন্ধন: মিসেস আদিলের মতো পরিবারের সবাই একসাথে সেহরি-ইফতার করলে পারিবারিক সম্প্রীতি বাড়ে।সুতরাং, সাওম ব্যক্তিকে সংযমী করে এবং সমাজে সহমর্মিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও