ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মিসেস হাসনাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সপরিবারে ঢাকায় থাকেন। আসন্ন ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু যানবাহনের কথা ভেবে চিন্তিত। যদিও বেসরকারি বাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের নিরাপদে ও কম খরচে যাতায়াতের জন্য দু'ধরনের বিশেষ সংস্থা আছে। সেবার মান নিয়ে কিছু অভিযোগ আছে। সংস্থা দু'টো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নয়। সরকার সংস্থা দু'টোর লোকসান কমানো এবং সেবার মান বাড়ানোর চিন্তা করছে। এছাড়া নতুন 'রুট' চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেছে।
- ক)(1)
ওয়াসা কী?
- খ)(2)
অনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ সংস্থা দু'টো কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
একচেটিয়া ব্যবসায় রোধে উদ্দীপকের সংস্থা দু'টোর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ওয়াসা (WASA) হলো 'Water Supply and Sewerage Authority' বা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ, যা নির্দিষ্ট মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও নর্দমা ব্যবস্থা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান মূলত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত না হয়ে জনগণের সেবা, নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক সার্বিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়, সেগুলোকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বলে। ডাক বিভাগ, সরকারি হাসপাতাল, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি এর উদাহরণ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি বা লোকসান সরকার সাধারণ বাজেট বা ভর্তুকির মাধ্যমে বহন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ সংস্থা দুটি হলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা 'বাংলাদেশ রেলওয়ে' (Bangladesh Railway) এবং 'বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন' (BRTC)।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত যেসব প্রতিষ্ঠান জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবহন সেবা প্রদান করে, তারা লাভজনক না হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত হয়। এগুলো সরকারি নীতি অনুসারে স্বল্প খরচে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করে।
উদ্দীপকে মিসেস হাসনাত ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য বেসরকারি বাসের পাশাপাশি নিরাপদ ও কম খরচে যাতায়াতের দুটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথা ভাবেন। সংস্থা দুটোর সেবার মান ও লোকসান নিয়ে সরকারের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে এবং নতুন রুট চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ আছে। বাংলাদেশে সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত সংস্থা দুটি হলো বিআরটিসি ও বাংলাদেশ রেলওয়ে। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে ও জনকল্যাণার্থে এই দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেসরকারি খাতের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য ও যাত্রী শোষণ রোধে উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিআরটিসি-এর মতো রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা দুটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর।
পরিবহন খাতে যদি কেবল বেসরকারি মালিকানাধীন বাস ও যানবাহন চালু থাকে, তবে মালিকরা জোটবদ্ধ বা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের জিম্মি করে অযৌক্তিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ পায়। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর উপস্থিতি বাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা দুটি সরাসরি মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না, বরং জনকল্যাণই এদের মূল লক্ষ্য। ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময়ে বেসরকারি পরিবহনগুলো যখন অস্বাভাবিক হারে ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের হয়রানি করে, তখন বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিআরটিসি নির্ধারিত ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান করে। যদিও এদের সেবার মান ও মুনাফা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবুও সরকার কর্তৃক এগুলোর নতুন রুট চালু ও সেবা মানোন্নয়নের উদ্যোগ বেসরকারি পরিবহনগুলোর একচেটিয়া আধিপত্যকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে।
অতএব, বাজারে ন্যায্য ভাড়া ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বেসরকারি খাতের স্বেচ্ছাচারিতা ও একচেটিয়া শোষণ রোধে এই রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও