বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

বিজ্ঞান প্রশ্ন

অমল বাবুর দুগ্ধজাত খাবার তৈরির একটি কারখানা আছে। একদিন একদল ছাত্র সেটা দেখতে এলে অমল বাবু দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদনে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন। খামারে থাকা ১৫ বছরের ছেলেটিকে দেখে জনৈক ভদ্র মহিলা তার ছেলে বলে দাবি করেন। তারপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত একটি টেস্টের মাধ্যমে ছেলেকে তার কাছে হস্তান্তর করেন।

  1. ক)

    সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    উদ্ভিদে টিস্যু কালচার কেন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের টেস্টের মাধ্যমে ভদ্র মহিলা কীভাবে তাঁর সন্তানকে ফিরে পেলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রযুক্তির ব্যবহার অমল বাবুর কারখানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ক্রোমোজোমের যে সংকীর্ণ স্থানে দুটি ক্রোমাটিড পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

  2. খ)

    উদ্ভিদের টিস্যু কালচারে মাতৃউদ্ভিদের একটি ক্ষুদ্র অংশ থেকে পরীক্ষাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়। এতে অল্প সময়ে ও অল্প জায়গায় একই গুণসম্পন্ন প্রচুর চারা পাওয়া যায়। চারাগুলো রোগমুক্ত হয় এবং বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা যায়। এ কারণেই উদ্ভিদে টিস্যু কালচার করা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের টেস্টটি হলো ডিএনএ টেস্ট (DNA ফিঙ্গারপ্রিন্টিং)। প্রতিটি মানুষের ডিএনএ-র গঠন আলাদা, আর সন্তান তার ডিএনএ-র অর্ধেক মায়ের এবং অর্ধেক বাবার কাছ থেকে পায়।

    ১. প্রথমে ভদ্র মহিলা ও ছেলেটির রক্ত বা চুলের মতো নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ আলাদা করা হয়।
    ২. ডিএনএ-কে নির্দিষ্ট এনজাইম দিয়ে টুকরো করে জেল ইলেকট্রোফোরেসিসের মাধ্যমে আলাদা করে ব্যান্ডের নকশা (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) তৈরি করা হয়।
    ৩. ছেলেটির ডিএনএ-র ব্যান্ডের অর্ধেক মহিলার ব্যান্ডের সাথে মিলে গেলে প্রমাণিত হয় যে তিনি তার মা।

    এভাবে ডিএনএ টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে আদালত ছেলেটিকে মহিলার কাছে হস্তান্তর করেন এবং তিনি তার সন্তানকে ফিরে পান।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রযুক্তি হলো জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology)। অমল বাবুর দুগ্ধজাত খাবারের কারখানার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন: দুধ থেকে দই, পনির, মাখন ও ঘোল তৈরির সময় উপকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন ল্যাকটোব্যাসিলাস) দিয়ে গাঁজন ঘটানো হয়, যা জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ।
    ২. দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি: খামারে উন্নত জাতের গরু উৎপাদনের মাধ্যমে বেশি দুধ পাওয়া যায়, ফলে কাঁচামাল সহজে মেলে।
    ৩. মান ও সংরক্ষণ: জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুগ্ধজাত খাবারের স্বাদ, গুণাগুণ ও সংরক্ষণকাল বাড়ানো যায়।

    সুতরাং, জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার অমল বাবুর কারখানার উৎপাদন, মান ও লাভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন