সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

“দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন”— এই স্লোগান নিয়ে ১৯৭২ সালে একটি সংস্থা গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ঋণদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এই সংস্থার মূল কাজ।

  1. ক)

    গ্রামীণ ব্যাংক কী?

    (1)
  2. খ)

    গ্রামীণ ব্যাংকের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উক্ত সংস্থার ভূমিকা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রামীণ ব্যাংক হলো নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী ও দারিদ্র্য বিমোচনমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রামীণ ব্যাংকের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর নিকট কোনো জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্ত করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই এর লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা 'ব্র্যাক' (BRAC)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ব্র্যাক একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী, সংস্থাটি “দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের ক্ষমতায়ন” স্লোগানকে ধারণ করে ১৯৭২ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এটি ত্রাণ সংস্থার গণ্ডি পেরিয়ে ক্ষুদ্রঋণ, আনুষ্ঠানিক ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠাতার নাম এবং এর কার্যক্রমের সাথে ব্র্যাকের শতভাগ সাদৃশ্য রয়েছে। অতএব, উদ্দীপকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককেই বোঝানো হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাকের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে এ সংস্থার বহুমুখী ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

    ১. দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণ: ব্র্যাক প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সংগঠিত করে জামানতহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে। এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষ হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু পালন, কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।

    ২. শিক্ষা বিস্তার: ব্র্যাকের উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলো ছড়িয়েছে। স্কুলছুট শিশু, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য পরিচালিত ব্র্যাকের এক কক্ষের বিদ্যালয়গুলো দেশের সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রেখেছে।

    ৩. স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি উন্নয়ন: ব্র্যাকের স্বাস্থ্য সেবিকারা ঘরে ঘরে গিয়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সচেতনতা, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ওরস্যালাইনের ব্যবহার সারা দেশে জনপ্রিয় করতে ব্র্যাক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।

    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন: ব্র্যাকের অধিকাংশ কার্যক্রমের লক্ষ্যই হলো নারীরা। নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে ব্র্যাক কাজ করছে।

    পরিশেষে বলা যায়, ব্র্যাক শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং দেশের সামগ্রিক টেকসই আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন