কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

মৎস্য কর্মকর্তা রমিজ উদ্দিন সাহেব আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে বড়খাপন গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ করলেন গ্রামের লোকজন খাল থেকে শোল, গজার, টাকিসহ নানা জাতের মাছ ধরছে। তিনি এও লক্ষ করলেন ধরা মাছের মধ্যে বেশকিছু ডিমওয়ালা মা মাছও আছে। তিনি গ্রামের লোকদের ডেকে একত্রিত করে ডিমওয়ালা মাছ ধরতে নিষেধ করেন এবং এর কুফল ও শাস্তি সম্পর্কে পরামর্শ দেন।।

  1. ক)

    সাইলেজ কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মৎস্য কর্মকর্তা রমি উদ্দিন সাহেব গ্রামবাসীকে উদ্দীপকে উল্লিখিত সময়ে মাছগুলো ধরা নিষেধ করার কারণ- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে রমিজ উদ্দিন সাহেবের পরামর্শ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রসালো সবুজ ঘাস বা গাছ বায়ুশূন্য অবস্থায় গাঁজন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে যে খাদ্য তৈরি করা হয়, তাকে সাইলেজ (Silage) বলে।

  2. খ)

    মাছ চাষে শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়। সম্পূরক খাদ্য (যেমন খৈল, কুঁড়া, ফিশমিল) মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। এতে অল্প সময়ে মাছ বড় হয় ও উৎপাদন বাড়ে। ঘনভাবে মজুদ করলেও খাদ্যের ঘাটতি হয় না। ফলে মাছ চাষে লাভ বেশি হয়, তাই সম্পূরক খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    উদ্দীপকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলা হয়েছে। এটি বর্ষাকাল, যখন শোল, গজার, টাকিসহ অনেক মাছের প্রজননকাল।

    ১. এ সময় মা মাছ ডিম ছাড়ে। ডিমওয়ালা মাছ ধরলে ডিম নষ্ট হয় এবং নতুন পোনা জন্মাতে পারে না।
    ২. প্রজননকালে মাছ না ধরলে পরবর্তী মৌসুমে মাছের সংখ্যা বাড়ে।
    ৩. এতে মৎস্য সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা হয় এবং বিলুপ্তির ঝুঁকি কমে।

    তাই রমিজ উদ্দিন সাহেব গ্রামবাসীকে ওই সময়ে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন।

  4. ঘ)

    রমিজ উদ্দিন সাহেবের পরামর্শ ছিল ডিমওয়ালা মা মাছ না ধরার, যা মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার মতে পরামর্শটি যথার্থ।

    ১. মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি: মা মাছ ডিম ছাড়তে পারলে প্রচুর পোনা জন্মায়। ফলে ভবিষ্যতে মাছের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়ে।
    ২. পুষ্টি চাহিদা পূরণ: মাছ প্রাণিজ আমিষের সহজলভ্য ও সস্তা উৎস। মাছের উৎপাদন বাড়লে সবাই সহজে আমিষ পায়, এতে পুষ্টিহীনতা কমে।
    ৩. জীববৈচিত্র্য রক্ষা: শোল, গজারের মতো দেশীয় মাছ বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পায়।
    ৪. আয় ও কর্মসংস্থান: মৎস্য সম্পদ বাড়লে জেলেদের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ে।

    সুতরাং, তাঁর পরামর্শ মেনে চললে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন