অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি প্রশ্ন

সমির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ. পাস করে। চাকরি খোঁজার পাশাপাশি অগ্রহায়ণ মাসে বাবার কৃষিকাজে সাহায্য করে। অন্য সময় তার কোনো কাজ থাকে না। তাই এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং নিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম দেয়।

  1. ক)

    উন্নয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    উন্নত দেশের জনগণের গড় আয়ুষ্কাল বেশি হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম অবস্থায় সমিরের ক্ষেত্রে কোন ধরনের বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমির মিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে কোন পদ্ধতি কাজ করেছে? এরূপ আরও দুইটি পদ্ধতি উন্নেখ করে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    উন্নয়ন হলো একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়ে।

  2. খ)

    উন্নত দেশে মাথাপিছু আয় বেশি হওয়ায় মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত বাসস্থান পায়। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত এবং মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন। ফলে রোগব্যাধি ও মৃত্যুহার কম থাকে। এসব কারণে উন্নত দেশের জনগণের গড় আয়ুষ্কাল (Life Expectancy) বেশি হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম অবস্থায় সমিরের ক্ষেত্রে মৌসুমি বেকারত্ব (Seasonal Unemployment) সৃষ্টি হয়েছে।

    বছরের কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমে কাজ থাকে এবং বাকি সময় কাজ থাকে না, এ অবস্থাকে মৌসুমি বেকারত্ব বলে। কৃষিক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়, কারণ ফসল বোনা ও কাটার সময়ই শুধু শ্রমের চাহিদা থাকে। সমির এম. এ. পাস করেও চাকরি পায়নি। সে শুধু অগ্রহায়ণ মাসে বাবার কৃষিকাজে সাহায্য করে এবং অন্য সময় তার কোনো কাজ থাকে না। অর্থাৎ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সে কাজ পায়, বাকি সময় বেকার থাকে। তাই সমিরের বেকারত্ব মৌসুমি বেকারত্ব।

  4. ঘ)

    সমির মিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কাজ করেছে। সে ভোকেশনাল ট্রেনিং নিয়ে পোল্ট্রি ফার্ম গড়েছে। প্রশিক্ষণ মানুষকে হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে কর্মদক্ষতা বাড়ায়।

    মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধির আরও দুইটি পদ্ধতি হলো:

    ১. শিক্ষা: শিক্ষা মানুষের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও কাজের দক্ষতা বাড়ায়। শিক্ষিত মানুষ নতুন প্রযুক্তি সহজে আয়ত্ত করতে পারে এবং কাজে বেশি উৎপাদনশীল হয়।

    ২. কর্মকালীন প্রশিক্ষণ (On-the-job Training): কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় শ্রমিক-কর্মচারীকে নতুন পদ্ধতি ও কৌশল শেখানো হয়। এতে অভিজ্ঞতা বাড়ে, ভুল কমে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

    সুতরাং, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মকালীন প্রশিক্ষণও মানুষের দক্ষতা বাড়িয়ে তাকে মানবসম্পদে পরিণত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন