ব্যবসায় উদ্যোগ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
বিএ পাস করার পর জনাব মিজান ২০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে গ্রামের ৩টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম ২ বছর তিনি কোনো লাভের মুখ দেখেননি। তাতে গ্রামের লোকেরা তাকে মাছ চাষ ছেড়ে চাকরি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি থেমে না গিয়ে মাছ চাষের ব্যবসায় অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে তার পুকুরের সংখ্যা ২০টি। সেখানে ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন এবং তার খামারের মাছ এখন বিদেশেও রপ্তানি হয়। তাকে দেখে অন্যান্য গ্রামের অনেক চাষী উৎসাহিত হয়ে মাছ চাষ শুরু করেছে এবং অনেকেই তার কাছ থেকে হাতে-কলমে মাছ চাষ শিখতে আসে।
- ক)(1)
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কী?
- খ)(2)
ব্যবসায়ে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কী প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব মিজানের ব্যবসায়ের উন্নতির জন্য একজন সফল উদ্যোক্তার কোন গুণটি পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দেশের অর্থনীতিতে জনাব মিজানের ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার যে আর্থিক, আইনগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা দেয়, তাকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলে।
- খ)
ব্যবসায়ে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্কতা এবং বিমা (Insurance) প্রয়োজন।
ব্যবসায় শুরুর আগে বাজার চাহিদা, প্রতিযোগিতা ও সম্ভাব্য ক্ষতির দিকগুলো বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করলে অনেক ঝুঁকি আগেই এড়ানো যায়। আর আগুন, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অনিশ্চিত ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিমা করলে ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। এতে ব্যবসায় টিকে থাকতে পারে।
- গ)
জনাব মিজানের ব্যবসায়ের উন্নতির জন্য একজন সফল উদ্যোক্তার অধ্যবসায় ও ধৈর্য গুণটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
অধ্যবসায় হলো বাধা ও ব্যর্থতার মধ্যেও কাজে লেগে থাকার মানসিকতা। উদ্দীপকে জনাব মিজান প্রথম দুই বছর কোনো লাভ না পেলেও এবং গ্রামের লোকেরা চাকরি করার পরামর্শ দিলেও থেমে যাননি। তিনি মাছ চাষ চালিয়ে যান। এ ধৈর্য ও লেগে থাকার ফলেই এখন তাঁর পুকুর ৩টি থেকে ২০টিতে বেড়েছে এবং ব্যবসায়ে সফলতা এসেছে।
- ঘ)
দেশের অর্থনীতিতে জনাব মিজানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মাছ চাষের উদ্যোগ অর্থনীতিকে নানাভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তাঁর খামারে ২৫০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এতে বেকারত্ব কমছে ও মানুষের আয় বাড়ছে।
২. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: খামারের মাছ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
৩. উৎপাদন বৃদ্ধি: পুকুরের সংখ্যা ৩টি থেকে ২০টি হওয়ায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে। এতে দেশে আমিষের জোগান বাড়ছে।
৪. অন্যদের অনুপ্রেরণা ও প্রশিক্ষণ: অনেক চাষী তাঁকে দেখে মাছ চাষ শুরু করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে শিখছেন। ফলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।অতএব, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে জনাব মিজান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও