পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রহমান এমন দেশের নাগরিক যেখানে রাষ্ট্রীয় সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে। অপরদিকে, তার বন্ধু রফিকের বসবাসকারী রাষ্ট্রে সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন করা হয়।
- ক)(1)
নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে কোন বিভাগ?
- খ)(2)
ক্ষমতার ভারসাম্য নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আলোচিত রহমানের রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রহমান ও রফিকের রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করে বিচার বিভাগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতার ভারসাম্য নীতি বা 'চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স' বলতে সরকারের প্রধান তিনটি অঙ্গ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের অবস্থাকে বোঝায়। এই নীতি অনুযায়ী কোনো বিভাগই একক ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয় না, বরং প্রতিটি বিভাগ অন্যান্য বিভাগের কাজের ওপর নির্দিষ্ট সাংবিধানিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে। এর ফলে কোনো একক বিভাগ স্বৈরাচারী হতে পারে না এবং ব্যক্তি-স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত রহমানের রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা হলো এককেন্দ্রিক সরকার (Unitary Government)।
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা একক কোনো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কোনো প্রদেশ বা অঞ্চলের স্বাধীন বা সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে না, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমান এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে রাষ্ট্রীয় সমস্ত ক্ষমতা একটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট কেন্দ্রীভূত থাকে। এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় পুরো দেশের শাসনকাজ একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয়। যদিও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দেশকে কয়েকটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হতে পারে, তবে সেসব অঞ্চল বা স্থানীয় সংস্থা তাদের ক্ষমতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং তাদের পৃথক কোনো সাংবিধানিক সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে না। অতএব, উদ্দীপকের রহমানের রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক প্রকৃতির।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহমানের রাষ্ট্রে এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা এবং রফিকের রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। নিচে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. ক্ষমতার বণ্টন: এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। স্থানীয় সরকার কেবল কেন্দ্র কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে স্পষ্টভাবে ক্ষমতা বণ্টন করা থাকে।
২. সংবিধানের প্রকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের সংবিধান সাধারণত লিখিত ও অনমনীয় (দুষ্পরিবর্তনীয়) হয়, যাতে কেন্দ্র বা প্রদেশ কেউই এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে। অপরদিকে, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত বা অলিখিত এবং সুপরিবর্তনীয় বা দুষ্পরিবর্তনীয় যেকোনো রূপেরই হতে পারে।
৩. বিচার বিভাগের প্রাধান্য: যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সর্বোচ্চ আদালত (যেমন সুপ্রিম কোর্ট) সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। এককেন্দ্রিক সরকারে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মতো সাংবিধানিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিশেষ ভূমিকা প্রয়োজন হয় না।
৪. আইনসভার প্রকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রে সাধারণত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকে, যার একটি কক্ষ জনগণের এবং অন্যটি প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা এক বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হতে পারে।
সুতরাং, রহমানের এককেন্দ্রিক সরকারে কেন্দ্রমুখী ও সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়, আর রফিকের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের নীতি প্রতিফলিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও