কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
পাট বাংলাদেশের প্রধান আঁশজাতীয় ফসল। পৃথিবীর মোট বস্ত্র চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় অপর একটি আঁশ জাতীয় ফসল থেকে। অপর আঁশজাতীয় ফসলটির অনুমোদিত জাতগুলোর একটি হলো ডেল্টাপাইন-৯০। এ ফসলের ক্ষতিকর পোকাগুলোর মধ্যে বোলওয়ার্ম অন্যতম। উন্নত জাত নির্বাচন, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, রোগ-পোকা দমনসহ সঠিকভাবে আন্তঃপরিচর্যার মাধ্যমে এ ফসলের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
- ক)(1)
একটি চিনি জাতীয় ফসলের নাম লেখো।
- খ)(2)
আখের লালপচা রোগের ২টি লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অপর আঁশ জাতীয় ফসলটির আন্তঃপরিচর্যা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ফসলন্বয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি চিনি জাতীয় ফসলের নাম হলো আখ (বা সুগারবিট)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আখের লালপচা (Red rot) রোগটি কলিটোট্রিকাম ফ্যালকাটাম (Colletotrichum falcatum) নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এর প্রধান দুটি লক্ষণ হলো:
১. আক্রান্ত আখের কাণ্ড লম্বালম্বিভাবে ফাটলে ভেতরের মজ্জা লাল রঙের দেখায় এবং লাল অংশের মাঝে মাঝে আড়াআড়িভাবে সাদা দাগ দেখা যায়।
২. আক্রান্ত কাণ্ড থেকে তীব্র অ্যালকোহল বা মদের মতো ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয় এবং গাছের শীর্ষভাগের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ডেল্টাপাইন-৯০’ জাত ও ‘বোলওয়ার্ম’ পোকা আক্রমণকারী অপর আঁশজাতীয় ফসলটি হলো তুলা।
তুলা ফসলের ভালো ফলন পেতে নিম্নোক্ত আন্তঃপরিচর্যা গ্রহণ করতে হয়:
১. চারা পাতলাকরণ ও শূন্যস্থান পূরণ: বীজ গজানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত চারা তুলে পাতলা করতে হবে এবং ফাঁকা জায়গায় নতুন চারা রোপণ করতে হবে।
২. আগাছা দমন ও নিড়ানি: তুলা বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গাছ ছোট থাকা অবস্থায় ২-৩ বার নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে করে দিতে হয়।
৩. সেচ ও নিকাশ: খরা মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে এবং বৃষ্টির মৌসুমে জমিতে যাতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে সে জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. রোগ ও পোকা দমন: তুলার অন্যতম প্রধান শত্রু হলো বোলওয়ার্ম ও জাবপোকা। এজন্য নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করে হাতজাল ব্যবহার, ফেরোমোন ফাঁদ স্থাপন এবং তীব্র আক্রমণে অনুমোদিত কীটনাশক সুষম মাত্রায় প্রয়োগ করে দমন করতে হয়।
৫. গাছের ডগা ছাঁটাই (টপিং): অতিরিক্ত অঙ্গজ বৃদ্ধি রোধ ও বেশি গুটি ধারণের লক্ষ্যে সঠিক সময়ে প্রধান কাণ্ডের ডগা কেটে টপিং করতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসল দুটি হলো পাট ও তুলা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ দুটি আঁশজাতীয় ফসলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাটের ভূমিকা:
- বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পাটকে ‘সোনালী আঁশ’ বলা হয়। কাঁচা পাট এবং পাটজাত দ্রব্য (যেমন- চট, বস্তা, কার্পেট, জিওটেক্সটাইল) বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পাট চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পাটকলসমূহে দেশের লাখ লাখ কৃষিজীবী ও শ্রমিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
- পরিবেশবান্ধব পণ্য: পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে।
- পাটকাঠি ও জ্বালানি: পাটকাঠি গ্রামীণ জ্বালানি, বেড়া এবং বর্তমানে পার্টিকেল বোর্ড ও উন্নত মানের কার্বন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে অর্থনৈতিক অবদান রাখছে।
২. তুলার ভূমিকা:
- বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প (RMG Sector), যার সিংহভাগ কাঁচামাল হলো তুলা।
- আমদানি ব্যয় সাশ্রয়: দেশীয়ভাবে পর্যাপ্ত তুলা উৎপাদন করা গেলে পোশাক খাতের জন্য বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানির পেছনে ব্যয়িত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।
- উপজাত থেকে আয়: তুলা থেকে আঁশ ছাড়াও তুলাবীজ থেকে উৎকৃষ্ট ভোজ্যতেল এবং তেল নিষ্কাশনের পর প্রাপ্ত খৈল পুষ্টিকর পশুখাদ্য ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে।
অতএব, পাট রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে এবং তুলা প্রধান রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও