বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রকৃতিপ্রেমী আরিবা কলেজ ছুটির সময় গ্রামে বেড়াতে এলেই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে "যায়। গ্রামীণ নিসর্গ-প্রকৃতি নিয়ে সে কবিতাও লেখে। কিন্তু মায়ের হঠাৎ মৃত্যুতে তার সবকিছুই ওলট-পালট হয়ে গেছে। এবার গ্রামে এলে মন ভালো করার জন্য বন্ধুরা তাকে জোর করে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে যায়। কিন্তু আজ নদীর তীরের কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্যও তার মনে পুলক জাগাতে ব্যর্থ হয়। চিরচেনা প্রকৃতিকেও আজ যেন অচেনা লাগে।

  1. ক)

    'পাথার' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'-চরণটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আরিবার সাথে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনা কীভাবে সম্পর্কযুক্ত বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর প্রতিফলিত হয়েছে।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'পাথার' শব্দের অর্থ সমুদ্র বা মহাসমুদ্র।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?'-চরণটি দ্বারা বসন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষণ দক্ষিণা সমীরণ বা দখিনা বাতাস বইতে শুরু করেছে কি না, কবি ভক্তের কাছে সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

    প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনে দক্ষিণ দিক থেকে মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হয়, যা বসন্তের আগমনকে নিশ্চিত করে। কিন্তু 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল প্রিয়জন হারানোর তীব্র শোকে আচ্ছন্ন থাকায় প্রকৃতির বসন্তের আগমন সম্পর্কে বেখবর ছিলেন। তাই কবি-ভক্ত যখন তাঁকে বসন্তের বন্দনাগান রচনার অনুরোধ করেন, তখন কবি আনমনা হয়ে জানতে চান সত্যিই দক্ষিণ দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে দখিনা বাতাস বইতে শুরু করেছে কি না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আরিবার মানসিক অবস্থা ও উদাসীনতা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির গভীর শোক ও প্রিয়জন হারানোর বেদনার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামালের জীবনে স্বামী তথা সাহিত্য-সাধনার প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে নেমে এসেছিল চরম বিষাদ ও শূন্যতা। চারপাশে ঋতুরাজ বসন্তের মনোরম সমারোহ ও পুষ্পশোভা সত্ত্বেও প্রিয়জনের স্মৃতি কবির মনকে এতোটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্য তাঁর মনে কোনো আনন্দ জাগাতে পারেনি।

    উদ্দীপকের আরিবাও একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ হলেও মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বন্ধুদের শত চেষ্টায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে নদীর তীরের কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্যও তার হৃদয়ে আনন্দ ফেরাতে পারেনি। এই যে স্বজন হারানোর তীব্র শোকে বাহ্যিক প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতি উদাসীনতা ও নিস্পৃহতা—এ দিক থেকেই উদ্দীপকের আরিবার মনোবেদনা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির মনোবেদনার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর প্রতিফলিত হয়েছে"—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।

    'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূল বিষয় হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক এবং সেই তীব্র বিষাদের কারণে প্রকৃতির আনন্দময় আগমনী রূপের প্রতি কবির চরম উদাসীনতা। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শীতের রিক্ততা কাটিয়ে ফাগুনে ফুল ফোটে, বসন্ত আসে। কিন্তু কবির অন্তর জুড়ে কেবলই প্রিয় বিয়োগের হাহাকার ও শূন্যতা বিরাজমান থাকায় প্রকৃতির কোনো সৌন্দর্যই তাঁর হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে না।

    উদ্দীপকেও অনুরূপ অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকৃতিপ্রেমী আরিবা গ্রামীণ নিসর্গ ভালোবাসত এবং তা নিয়ে কবিতা লিখত। কিন্তু মায়ের হঠাৎ মৃত্যুর ফলে তার হৃদয়ে যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়, তা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অনুভূতিকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেয়। কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্যও তার মনে কোনো পুলক সৃষ্টি করতে পারে না; বরং চিরচেনা প্রকৃতি তার কাছে অচেনা ও অর্থহীন মনে হয়।

    কবিতায় যেমন কবির ব্যক্তিগত বিষাদ প্রকৃতির ঋতু-উৎসবকে অর্থহীন করে তুলেছিল, তেমনি উদ্দীপকেও আরিবার মাতৃশোক বাইরের প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তিজীবনের গভীর শোক ও শূন্যতার কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পরাজয়ই উভয়ের মূল ভাব। সুতরাং, উদ্দীপকটিতে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার মূলসুর সার্থকভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন