উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • উৎপাদনের উপকরণ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জব্বার, আকবর ও সহিদ তিন বন্ধু মিলে লিখিত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে পাবনাতে একটি অটোরাইস মিল স্থাপন করেন। এর থেকে অর্জিত মুনাফা তারা মূলধন অনুপাতে ভাগ করেন। উত্ত অটো মিলে উৎপাদিত চালের মান ভালো হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। বর্তমানে তারা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের জন্য মূলধন বাজার হতে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
- ক)(1)
মূলধন কী?
- খ)(2)
সদ্যয়ের গতিশীলতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক পর্যায়ে কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক? সংগঠনের ধরন উল্লেখপূর্বক তোমার মতামত ব্যস্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষায় মানুষের শ্রম দ্বারা উৎপাদিত সম্পদের যে অংশ বর্তমান ভোগে ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় ভবিষ্যৎ উৎপাদন কাজে বিনিয়োগ করা হয়, তাকে মূলধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রশ্নে 'সদ্যয়ের গতিশীলতা' শব্দটি মূলত 'সঞ্চয়ের গতিশীলতা' বা 'মূলধনের গতিশীলতা' (Mobility of Capital/Savings)। মূলধন বা সঞ্চয়কে অলস ফেলে না রেখে লাভজনক ব্যবসায়িক খাত বা এক স্থান/শিল্প থেকে অন্য লাভজনক উৎপাদনশীল খাতে স্থানান্তর করার সামর্থ্য ও প্রক্রিয়াকে এর গতিশীলতা বোঝায়। এর ফলে সমাজে সম্পদের সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক পর্যায়ে একটি 'অংশীদারি ব্যবসায়' সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তির ভিত্তিতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে যে ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এতে লাভ-লোকসান সাধারণত চুক্তি বা মূলধনের অনুপাতে বণ্টন করা হয়।
উদ্দীপকে জব্বার, আকবর ও সহিদ—এই তিন বন্ধু মিলে লিখিত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে পাবনাতে অটোরাইস মিলটি স্থাপন করেন এবং অর্জিত মুনাফা মূলধন অনুপাতে ভাগ করে নেন। একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের ভিত্তিতে যৌথভাবে পরিচালিত হওয়ায় এটি স্পষ্টতই একটি অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক। তারা অংশীদারি ব্যবসায় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে 'যৌথমূলধনী কোম্পানি' (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি)-তে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মূলধন বাজার (শেয়ার বাজার) থেকে মূলধন বা অর্থ সংগ্রহের অধিকার কেবল আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির থাকে। সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলধন সীমিত এবং তা জনগণের কাছে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রি করে মূলধন বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে না।
উদ্দীপকে অটোরাইস মিলটির চালের চাহিদা ও ব্যবসায়িক সাফল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা সম্প্রসারণের জন্য বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রয়োজন। তিন বন্ধুর পক্ষে অংশীদারি ব্যবসায়ের কাঠামোর মধ্যে থেকে মূলধন বাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব নয়। তাই আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়ে যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠন করা ছাড়া মূলধন বাজারে প্রবেশ অসম্ভব। কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ, মালিকদের দায় সীমিতকরণ এবং ব্যবসায়ের চিরন্তন অস্তিত্ব নিশ্চিত হবে। সুতরাং, তাদের কোম্পানি গঠন ও নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও