ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
আবরার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মাত্র বারো বছর বয়সেই তিনি কয়েকশ হাদিস মুখস্ত করেছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে। দ্রবণ, পরিস্রবণসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সফলভাবে সম্পাদন করে। এক শিক্ষার্থীতো যীতো উড়োজাহজ তৈরি করে আকাশে উড়িয়ে হইচই ফেলে দেয়। উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব 'ক' শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মন্তব্য করেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা একদিন দেশ সেরা বিজ্ঞানী হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, দ্রবণ, পরিস্রবণ শাস্ত্রের জনক হলেন মধ্যযুগের একজন মুসলিম মনীষী।
- ক)(1)
মহানবি (স)-এর শৈশবকালে আরবের কোন গোেত্র বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলতেন?
- খ)(2)
"আজ তোমাদের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হাফিজ আবরারের স্মৃতিশক্তির সাথে কোন মুসলিম মনীষীর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? তার জ্ঞানার্জন সম্পর্কে যা জানো লেখো।
- ঘ)(4)
বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মধ্যযুগের মহান মুসলিম মনীষীর অবদান নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মহানবি (স)-এর শৈশবকালে আরবের বনু সা'দ গোত্র বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলত।
- খ)
মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (স) বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। যারা বছরের পর বছর তাঁকে ও মুসলমানদের নির্যাতন করেছিল, তারা ভয়ে ছিল। তখন তিনি বলেন, "আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন।" এ উক্তিতে প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা ও মহানুভবতা প্রকাশ পেয়েছে। এটি ইতিহাসে ক্ষমার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
- গ)
হাফিজ আবরারের স্মৃতিশক্তির সাথে মুসলিম মনীষী ইমাম বুখারি (র)-এর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ইমাম বুখারি (র) বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ। অল্প বয়সেই তিনি কুরআন মুখস্ত করেন এবং ছোটবেলা থেকে হাদিস মুখস্ত করা শুরু করেন। হাদিস সংগ্রহের জন্য তিনি মক্কা, মদিনা, বাগদাদ, বসরাসহ বহু স্থানে সফর করেন। প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারীকে যাচাই করে তিনি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি' সংকলন করেন। আবরারও অল্প বয়সে কুরআন ও বহু হাদিস মুখস্ত করেছেন, তাই তাঁর সাথে ইমাম বুখারির মিল রয়েছে।
- ঘ)
বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনীষী হলেন জাবির ইবনে হাইয়ান, যাঁকে রসায়নশাস্ত্রের জনক বলা হয়। উদ্দীপকে দ্রবণ ও পরিস্রবণের মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাঁর অবদান:
১. পরীক্ষানির্ভর রসায়ন: তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রসায়নকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২. রাসায়নিক প্রক্রিয়া: তিনি পাতন, দ্রবণ, পরিস্রবণ, স্ফটিকীকরণ ও বাষ্পীভবনের মতো প্রক্রিয়া উন্নত করেন, যা আজও ব্যবহৃত হয়।
৩. গ্রন্থ রচনা: তিনি রসায়ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ লিখেছেন, যা পরবর্তীতে ইউরোপে অনুবাদ হয় এবং আধুনিক রসায়নের ভিত্তি গড়তে সহায়তা করে।
৪. শিল্পে প্রয়োগ: তাঁর গবেষণা কাচ, রং, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি শিল্পের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।সুতরাং, জাবির ইবনে হাইয়ানের অবদান আধুনিক রসায়ন ও বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনায় অসামান্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও