সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
আমিত্বকে বলি দিয়ে স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,মুছালে পরের অশ্রু-ঘুচালে পরের ব্যথা!আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,বিদূরিলে পর দুঃখ সকালে-বিকালে-সাঁঝে!তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভেতরে তুমি,যা রুপিবে তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
- ক)(1)
জাতিকে কী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে?
- খ)(2)
মানব কল্যাণ কথাটা আমরা সম্ভা ও মামুলি বানিয়ে ফেলেছি কীভাবে? বুঝিয়ে লেখো ।
- গ)(3)
কবিতাংশটি ‘মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করেছে? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
“কবিতাংশটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন"—তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত মানুষের চরম দুর্দশার সময় দু-এক পয়সা ভিক্ষা দেওয়া বা তথাকথিত দান-খয়রাত করাকেই মানব-কল্যাণ মনে করা হয়। কিন্তু এ ধরনের সাহায্য গ্রহীতার আত্মমর্যাদা নষ্ট করে এবং তাকে পরমুখাপেক্ষী করে তোলে। লেখক আবুল ফজলের মতে, সত্যিকারের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্য বাদ দিয়ে কেবল সাহায্য করার কৃত্রিম মনোভাব বা লোকদেখানো দয়া প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে আমরা মানব-কল্যাণ কথাটিকে সস্তা ও মামুলি অর্থহীন ধারণায় পরিণত করেছি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবিতাংশটি আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের নিঃস্বার্থ পরোপকার ও আত্মত্যাগের দিকটিকে ইঙ্গিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতায় আমিত্ব বা নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরের হিতসাধন, দুঃখ দূরীকরণ এবং দীন-দুঃখীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবার মনোভাব জাগ্রত করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অপরের কান্না মুছিয়ে দিলেই মানবজীবনে আসল সুখ পাওয়া যায়।
‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধেও লেখক দেখিয়েছেন যে, মানব-কল্যাণ নিছক কোনো বাহ্যিক দান-খয়রাত নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও মানুষের অন্তরের সম্পর্ক স্থাপন করাই এর মূল। মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবমর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে নৈতিক দিক রয়েছে, উদ্দীপকের নিঃস্বার্থ সেবার আহ্বানে সেই পরহিতব্রতের দিকটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“কবিতাংশটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন”— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অপরের দুঃখ মোচন এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থাৎ কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরোপকার, ত্যাগ ও মানবিক সহানুভূতির দিকটিই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে মানব-কল্যাণের ধারণাটি কেবল ব্যক্তিগত দয়া বা পরোপকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অনেক বেশি ব্যাপক, গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, প্রচলিত দান-খয়রাত গ্রহীতার আত্মমর্যাদা নষ্ট করে তাকে হীনমন্য করে তোলে। প্রকৃত মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মুক্তির ব্যবস্থা করা—যাতে মানুষের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ না হয় এবং সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ আত্মনির্ভরশীল ও পূর্ণাঙ্গ মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সুতরাং উদ্দীপকে কেবল নিঃস্বার্থ পরোপকারের ব্যক্তিগত নৈতিক দিকটি ফুটে উঠলেও ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সমাজ-কাঠামোর ইতিবাচক রূপান্তর এবং সামগ্রিক মানবমুক্তির গভীর দর্শন উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই কবিতাংশটি প্রবন্ধের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নয়, বরং একটি আংশিক প্রতিফলন মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও